ভারতের গুজরাট রাজ্যে এক মর্মান্তিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আড়াই শতাধিক যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপর যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে একটি ভবনে বিমানটি আছড়ে পড়ায় ওই ভবনের বাসিন্দারাও হতাহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় বিমান টুকরো টুকরো হলেও এক যাত্রীর প্রাণ রক্ষা পায়। অন্যদিকে, আরোহী না হয়েও মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলে যেখানে উড়োজাহাজটি ধসে পড়ে ও এর আশপাশে অনেকে হতাহত হয়েছেন। বিমানটিতে ২৪২ আরোহী ছিলেন। সব মিলিয়ে প্রাথমিক খবরে জানা যাচ্ছে, এই দুর্ঘটনায় ২৯৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

আকাশযাত্রায় নিরাপত্তার দিকটি সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে বিমান চালনা কর্তৃপক্ষের সতর্কতা, উচ্চ পেশাদারত্ব, পাইলটের দক্ষতা ও বিমানের মান আলোচনায় আসে। ভারতে বিধ্বস্ত বিমানের নির্মাতা বোয়িং। বিমান নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রয়েছে। ভারতে বিধ্বস্ত হওয়া বোয়িংয়ের ৭৮৭ মডেলটির ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনাÑ এটিই প্রথম। বিধ্বস্ত বিমানটি ইতোমধ্যে ১১ বছর উড়েছে। তার পরও দুর্ঘটনার সাথে সাথে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম পড়ে গেছে। বোয়িংও অত্যন্ত সতর্ক, দুর্ঘটনার পরপর এর তদন্তে নেমেছে।

ভারতীয় এয়ারলাইন্স-এয়ার ইন্ডিয়ার এই বিমান স্থানীয় সময় ১টা ৩৯ মিনিটে আকাশে ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিপদসঙ্কেত পাঠায়। তার পর দেখা যায়, আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী সৃষ্টি হয়েছে। বিমানটি কেন বিধ্বস্ত হয়েছে তা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে। এ কাজে সাহায্য করবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড। বিমানের ধ্বংসাবশেষ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্ল্যাকবক্স খতিয়ে দেখা হবে।

বিমানযাত্রা পৃথিবীর যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করেছে। এক দিনে মানুষ পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে ভ্রমণ করতে পারছেন। বিশ্বব্যাপী বিমানযাত্রা জনপ্রিয় হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার আহমেদাবাদের মাত্রায় বড় দুর্ঘটনা বৈশ্বিক বিমান পরিচালনা ব্যবস্থায় বিরল। ২০২০ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান রানওয়েতে ছিটকে পড়ে দুই ভাগ হয়ে ২০ যাত্রী নিহত হন। এয়ার ইন্ডিয়ার আরেকটি বিমান ২০১০ সালে অবতরণ করতে গিয়ে খাদে পড়ে ১৬৬ জনের মধ্যে ১৫৮ যাত্রী প্রাণ হারান। ভারতে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে নিয়মিত বিরতিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

পাখিদের দেখে মানুষ উড়োজাহাজ আবিষ্কার করেন; কিন্তু সেটি মানুষের চড়ার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শত শত বছর লেগে যায়। বিমান যাতে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে সে জন্য মানুষের চেষ্টার শেষ নেই। তার পরও মাঝে মধ্যে বড় দুর্ঘটনায় মানুষ পড়ছে। আহমেদাবাদে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে চারটি দেশের মানুষের প্রাণ গেছে। এর মধ্যে ভারতের ১৬৯ ও যুক্তরাজ্যের ৫৩ নাগরিক। এক ডাক্তার দম্পতি ছিল, যারা যুক্তরাজ্যে অভিবাসী হয়ে শিশুসন্তানদের নিয়ে ওই বিমানে উঠেছিলেন। শিশুসন্তানদের নিয়ে তাদের উঠানো সেলফি এখন শোকগাথা হয়ে থাকবে। এভাবে শত শত স্বপ্ন এক দুর্ঘটনায় নিমেশে হারিয়ে গেছে।

বিমান দুর্ঘটনায় যুক্তরাজ্য ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা শোক প্রকাশ করে সমবেদনা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারাও শোক প্রকাশ করেছেন। আমরাও এদিনে ক্ষতির শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাই।