সারা দেশে প্রতিনিয়ত এমন সব কাণ্ড-কারখানা সংঘটিত হচ্ছে; পরিণামে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। কোনো একটি বিশেষ এলাকা নয়, সারা দেশের অবস্থা একই রকম। প্রকৃত বাস্তবতায় দেশে অবাধে বন উজাড়, পহাড়-টিলার মাটি কাটা, নদ-নদী, খাল-বিল-জলাভূমি দখলে ও দূষণে পরিবেশের উন্নতি না হয়ে দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। যদিও দেশের প্রাণ-প্রকৃতির দেখাশোনায় এবং সংরক্ষণে সরকারি কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তবে সরষের মধ্যে ভূত থাকায় অর্থাৎ দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রক্ষকের ভূমিকা পালন না করে ভক্ষক হয়ে প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংসে মদদ দিচ্ছেন। ফলে পরিবেশের বিপর্যয় রোধ করা যাচ্ছে না।

লক্ষণীয় দেশের বনাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে পাহাড়ি জনপদে বেপরোয়াভাবে পাহাড় এবং টিলা কাটায় পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। পাহাড় কেটে সেখানে বসতি স্থাপন করায় ভূমিধসে প্রতি বছর দেশে মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। কিন্তু রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অপকর্ম করায় হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নজির খুব একটা দেখা যায় না। উপরন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের পাহাড়ি জনপদ জৈয়ন্তাপুরে রাতের আঁধারে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছে দুর্বৃত্ত চক্র। কিন্তু পরিবেশবিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ড থামাতে স্থানীয় প্রশাসন যেন উদাসীন। প্রশাসনের এই মৌনতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নির্মাণ, বিনোদন পার্ক তৈরি, খাল-বিল ভরাট, এমনকি রাস্তা সম্প্রসারণেও কাটা হচ্ছে পাহাড় টিলা। রাতে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হরিপুর উৎলারপার এলাকা, চারিকাটা ইউনিয়নের থুবাং, চিকনাগুল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি, সারীঘাট এলাকাসহ ৮-১০টি বৃহৎ টিলা কাটা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সঙ্ঘবদ্ধ চক্র এক্সেভেটর মেশিনের সাহায্যে ৫০-৬০ ফুট টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে সমতল করে ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে থেমে থেমে পাহাড় কাটা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। এ ছাড়া সরকারি হাওরে প্রতি রাতে যন্ত্রদানব ব্যবহার করে শতাধিক ট্রাক দিয়ে বিভিন্ন স্থানে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে ফসলিজমি আর জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ। মাটির টপ সয়েল কেটে নেয়ার ফলে টিলা শ্রেণীর জমি সমতল ও কৃষিজমির শ্রেণী পরিবর্তন হয়ে নালা অথবা জলকড়া জমিতে পরিণত হচ্ছে। এতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পাহাড়-টিলা ও ফসলি জমি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে। এ উপজেলায় বেশির ভাগ জমি দুই বা তিন ফসলি। এখানে ধান, আলু, ভুট্টা, শিম, বরবটি, ধনিয়া, নাগা মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হয়। মাটি কেটে বিক্রি করায় দিন দিন কৃষিজমি কমে যাচ্ছে।

যদিও টিলা কাটা আইনিভাবে নিষিদ্ধ। তবু বিগত ১৫ বছরে জৈয়ন্তাপুরের এক-তৃতীয়াংশ টিলা কেটে ফেলা হয়েছে। এতে ঝুঁকি বাড়ছে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের। স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের উদাসীনতা ও দায়িত্ব নিয়ে ঠেলাঠেলিতে এমন কার্যক্রম চলছে। আমরা মনে করি, সারা দেশের প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। যাতে পরিবেশের ক্ষতি করে এমন অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে জৈয়ন্তাপুরে টিলা কাটায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করাতে স্থানীয় প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে।