ভর্তিতে বাড়তি টাকা আদায় করা হলে কী অবস্থা দাঁড়ায় তার প্রমাণ জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ। ছাত্র প্রতিনিধির সাথে আলাপ ছাড়া একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ায় এমন হয়েছে।
একটি সহযোগী দৈনিকের জামালপুর প্রতিনিধির প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে নতুন অধ্যক্ষ যোগদান করে স্নাতক (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্সের প্রথম বর্ষের ভর্তিতে বাড়তি টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়ার পরও বাড়তি আদায় করা হয়েছে; যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এতে করে কয়েক লাখ টাকা বাড়তি আদায় করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর ৯ নভেম্বর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্সের প্রথম বর্ষের ভর্তি শুরু হয়। এ কার্যক্রম ১৬ নভেম্বর শেষ বর্ষে ভর্তিতে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে বিএ/বিবিএস শাখায় চার হাজার ৩০৫ টাকা ও বিএসসিতে চার হাজার ৪০৫ টাকা শিক্ষার্থীদের থেকে নেয়া হয়েছে। গত বছর বিএ/বিবিএস শাখায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের তিন হাজার ৫১০ টাকা ও বিএসসি শাখায় তিন হাজার ৫৬০ টাকা দিতে হয়েছে। এবার বাড়িয়ে চার হাজার ৩০৫ টাকা ও চার হাজার ৪০৫ টাকা নেয়া হয়েছে। সেশন চার্জের নামে দুই হাজার ৪৯০ টাকা আদায় করা হয়েছে। এই সেশন চার্জ কোন খাতে তা উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া বর্তমান অধ্যক্ষের সাবেক কলেজ বগুড়া আজিজুল হক কলেজে দুই হাজার ৮১০ টাকা করে দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। ওই কলেজের তুলনায় শিক্ষার্থীদের বিএ/বিবিএস এক হাজার ৪৯৫ টাকা ও বিএসসিতে এক হাজার ৫৯৫ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা বেশি আদায় হয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বলেছেন, ‘এত বেশি যৌক্তিক না। কলেজ যদি অযৌক্তিক দাবি জানায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করা উচিত। এ প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকব।’ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, ‘বাড়তি নেয়া হয়নি। গত বছর ছাত্রদের আন্দোলনে সেশন চার্জ কমানো হয়েছিল। কলেজে বিভিন্ন সময় ছাত্রদের অনেক আবদার মেটাতে হয়।’ উল্লিখিত বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক শওকত আলম মীর বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তিতে খরচ বাড়ানো হয়েছে। কলেজে অনেক বেসরকারি কর্মচারী রয়েছেন। বেতনও কলেজ থেকে দিতে হয়। তাই ভর্তি খরচ কিছুটা বেড়েছে।
আমাদের দেশে সাধারণত মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর বেশির ভাগ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এ প্রেক্ষাপটে তাদের জন্য সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ভর্তি ফি অতিরিক্ত মনে হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ অবস্থা হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কী হাল দাঁড়াবে?
আমরা মনে করি, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা দরকার। সেখানে উল্টো সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফি বাড়ানো কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ব্যাপারে সরকারের নজর দেয়া অত্যাবশ্যক।