যুক্তরাষ্ট্র আবারো কোনো হামলা চালালে এবার দ্বিগুণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানবে ইরান। একই সাথে বন্ধ করে দেয়া হবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। বুধবার ইরানের একটি বিশ্বস্ত নিরাপত্তা সূত্র প্রেস টিভিকে এই তথ্য জানিয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টার ঘটনাবলীতে তেহরান নিজের সামরিক ও কৌশলগত নীতিতে বড় পরিবর্তন এনে এই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন রণকৌশল অনুযায়ী, ইরানের মাটি বা স্বার্থে আঘাত করা হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে। মার্কিন বা তাদের মিত্রদের যেকোনো হামলার পর ইরান সাথে সাথে দুটি বড় পদক্ষেপ নেবে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হবে। দ্বিতীয়ত, শত্রুপক্ষের ওপর ‘একটির বদলে দুটি’ অনুপাতে পাল্টা হামলা চালানো হবে। অর্থাৎ, ইরানের একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হলে শত্রুর অন্তত দুটি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত করা হবে।

ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি বুধবার (৮ জুলাই) জানিয়েছে, নিরাপত্তা সূত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া জবাব দিয়ে বলেছে, “যেকোনো হুমকিরই শক্তিশালী জবাব দেয়া হবে। ইরান এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের আঞ্চলিক দোসরদের আলাদা করে দেখবে না। এসব হুমকি দিয়ে ট্রাম্প কিছুই পাবেন না, উল্টো হরমুজ প্রণালী আর চূড়ান্ত চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা—দুটোই হারাবেন। এখন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পেরই।”

বুধবার ভোরে ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ অবৈধ ও উস্কানিমূলকভাবে নতুন করে হামলা চালালে পারস্য উপসাগরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক হামলা দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশ ও মাহশাহরের বেশ কিছু উপকূলীয় ঘাঁটি ও অসামরিক স্টেশনে আঘাত হানে। এর মধ্য দিয়ে সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করা হয়েছে।

এর জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সফল হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি জানায়, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের এলাকা সালমান বন্দর এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটির নানা স্থাপনায় তাদের আঘাত নিখুঁতভাবে লেগেছে। এই অভিযানে বাধা দিতে আসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোনকেও গুলি করে নামানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, “আগ্রাসী মার্কিন বাহিনীকে” যে পক্ষই সাহায্য করবে, সে পক্ষকেই ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে। খাতাম আল-আম্বিয়া আরো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ হলো ইরানের নির্ধারিত পথ। এই প্রণালী ব্যবস্থাপনায় অন্য কারো হস্তক্ষেপ তেহরান মেনে নেবে না।