হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ক্যাবিনেটের শীর্ষ মন্ত্রী আন্তাল রোগানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার দেয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হাঙ্গেরির জাতীয়তাবাদী সরকার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত যে বাতাসের গতিপথ বদলেছে।

২০১০ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে মধ্য ইউরোপের দেশটিতে শাসন করছেন অরবান। তিনি তার ‘প্রিয় বন্ধু’ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র হাঙ্গেরির গোয়েন্দা সংস্থা এবং সরকারি যোগাযোগবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আন্তাল রোগানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

রোগানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি হাঙ্গেরির অর্থনীতির কয়েকটি কৌশলগত খাতকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ষড়যন্ত্র করেছেন এবং সেসব খাত থেকে অর্থ নিজে গ্রহণ করেছেন ও নিজের রাজনৈতিক দলের অনুগতদের পুরস্কৃত করেছেন।

তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড প্রেসম্যান বলেন, ‘আন্তাল রোগান যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির প্রতীক, তা হাঙ্গেরির সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করছে- যা যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে।’

অরবান সরকার তখন এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘ব্যর্থ মার্কিন প্রশাসনের পাঠানো রাষ্ট্রদূতের ব্যক্তিগত প্রতিশোধ’ বলে উল্লেখ করেছিল। প্রেসম্যান জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই পদত্যাগ করেন।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, রোগানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে ‘বাদ দেয়া হয়েছে’। আর হাঙ্গেরি এই পদক্ষেপকে বলেছে, ‘ওয়াশিংটনে বাতাসের গতিপথ বদলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত।’

হাঙ্গেরি সরকারের মুখপাত্র জোলতান কোভাচস এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নীতির মোড় পরিবর্তনের প্রমাণ, যা হাঙ্গেরির দৃষ্টিতে ইচ্ছাকৃত বিদ্বেষ থেকে নেয়া অন্যায় সিদ্ধান্তকে বাতিল করেছে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র-হাঙ্গেরি সম্পর্ক ছিল ঠান্ডা; ওয়াশিংটন বারবার গণতন্ত্র-পশ্চাদপসরণের অভিযোগে বুদাপেস্টকে সমালোচনা করত।

সূত্র : বাসস