মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শুক্রবার মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইড কার্যকরভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশী সাহায্য ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেছেন, শুক্রবার পররাষ্ট্র দফতর ও ইউএসএইড কংগ্রেসকে তাদের পুনর্গঠনের অভিপ্রায় সম্পর্কে অবহিত করেছে। আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে ইউএসএইডের কিছু পুনর্গঠন করা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, প্রশাসনের অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় ইউএসএইডের এমন কার্যক্রম বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে পররাষ্ট্র দফতর।

তিনি বলেন, ’দুর্ভাগ্যবশত, ইউএসএইড অনেক আগেই তার মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেছে। ফলস্বরূপ লাভ খুব কম ছিল এবং খরচও খুব বেশি ছিল।’

জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প ৯০ দিনের জন্য মার্কিন বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ করে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এরপর ইউএসএইডের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে কাটছাঁট করা হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তার জন্য কিছু ছাড় দেয়া হয়।

সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক-বিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাটরা এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, পুনর্গঠনের ফলে কেবলমাত্র ইউএসএইডের যেকোনো বহাল থাকা কর্মসূচি বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়বে না বরং পররাষ্ট্র দফতরের ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে।

তারা আরো বলেন, এই প্রস্তাবটি অবৈধ, বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য।

বন্ধ হওয়ার আগে সংস্থাটি প্রায় বছরে ৪৩ বিলিয়ন ডলারের বাজেট পরিচালনা করত, যা বিশ্বের মানবিক সহায়তার ৪০ শতাংশেরও বেশি। ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই এর অধিকাংশ কর্মীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল।

একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের মতে, শুক্রবার এক স্মারকলিপিতে ইউএসএইড কর্মীদের আইন অনুসারে বাধ্যতামূলক নয় এমন সব চাকরি বাদ দেয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে স্বাধীন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রধান জেরেমি লুইন বলেছেন, পররাষ্ট্র দফতর আগামী মাসগুলোতে ইউএসএইডের বেশিভাগ স্বাধীন কার্যক্রম বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে।

সূত্র : এএফপি/বাসস