যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাজেট প্রস্তাবনায় জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অর্থায়ন বাতিলের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। মালি, লেবানন ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে শান্তিরক্ষা মিশনের ব্যর্থতার উল্লেখ করে এই খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে হোয়াইট হাউসের অফিস অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি)।

বুধবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স অভ্যন্তরীণ কিছু নথি যাচাই করে এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র জাতিসঙ্ঘের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ। সংস্থাটির ৩৭০ কোটি ডলারের নিয়মিত বাজেটের ২২ শতাংশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি শান্তিরক্ষা বাজেটেও সবচেয়ে বড় অংশীদার দেশটি। অথচ এই দুই খাতেই বাজেট কমানোর প্রস্তাব এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে। জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা বাজেট মালি, লেবানন, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ সুদান, পশ্চিম সাহারা, সাইপ্রাস, কসোভো, সিরিয়া, ইসরাইল-অধিকৃত গোলান মালভূমি এবং দক্ষিণ সুদান ও সুদানের যৌথভাবে পরিচালিত প্রশাসনিক অঞ্চল আবেইয়ের মধ্যে নয়টি মিশনের তহবিল সরবরাহ করে।

খসড়া প্রস্তাবনাটি পাসব্যাক নামে পরিচিত, যা ১ অক্টোবর আসন্ন অর্থবছরের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের প্রেক্ষাপটে ওএমবি এটি তৈরি করে থাকে। নতুন প্রস্তাবনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক বাজেট প্রায় অর্ধেকটা হ্রাস করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে বাজেট প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার জন্য কংগ্রেসে আগে তা অনুমোদিত হতে হবে। আইনপ্রণেতারা চাইলে প্রস্তাবিত তহবিল কাটছাঁটের কিছু বা সম্পূর্ণটা ফিরিয়ে আনতে পারেন।

এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কূটনীতি ও বৈদেশিক সহায়তার বাজেটে এক-তৃতীয়াংশ কাটছাঁটের প্রস্তাব কংগ্রেস ঠেকিয়ে দিয়েছিল।

এদিকে ওএমবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহায়তার বিকল্প হিসেবে ২১০ কোটি ডলারের ‘আমেরিকা ফার্স্ট অপরচুনিটি ফান্ড (এওয়ানওএফ) গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। তারা বলছে, প্রশাসন চাইলে এই তহবিল থেকেই জাতিসঙ্ঘে সীমিত সহায়তা দেয়া যেতে পারে।

মঙ্গলবার ওএমবি প্রস্তাবের জবাব দেয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্র দফতরের। ওএমবির প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস সাংবাদিকদের বলেন, বাজেটের জন্য এখনও চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেই।

সূত্র : রয়টার্স