দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সাহায্যের সীমিত প্রবেশাধিকারের ফলে হাইতিতে ১০ লাখেরও বেশি শিশু ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) জাতিসঙ্ঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এ কথা জানিয়েছে।

হাইতিতে ইউনিসেফের প্রতিনিধি গীতা নারায়ণ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি পরিস্থিতির দিকে নজর দিচ্ছি যেখানে চলমান সহিংসতা, চরম দারিদ্র্য ও ক্রমাগত অর্থনৈতিক সংকটের ফলে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের যত্ন ও পুষ্টি দিতে পারবেন না।’

সংস্থাটি বলেছে, হাইতির অধিকাংশ এলাকাজুড়ে সশস্ত্র সহিংসতার ফলে পরিবারগুলো পুষ্টি সঙ্কটে ভুগছে।

সংস্থাটি আরো বলেছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ইউনিসেফ ও এর অংশীদাররা চার হাজার ছয় শ’ জনেরও বেশি তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা করেছে, যা এই বছর জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার প্রয়োজন বলে অনুমান করা এক লাখ ২৯ হাজার শিশুর মাত্র ৩.৬ শতাংশ।

বাসস তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর ব্যবহৃত সর্বশেষ সমন্বিত খাদ্য নিরাপত্তা শ্রেণি বিভাগ (আইপিসি) অনুসারে, প্রায় ২৯ লাখ শিশু সারাদেশে উচ্চস্তরের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হচ্ছে, যা হাইতিতে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাসহ স্বাস্থ্য সেবা থেকে শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে শিশুরা বিভিন্ন ধরনের অপুষ্টি ও প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকিতে পড়ছে।

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে অর্ধেকেরও কম স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র সম্পূর্ণরূপে চালু আছে। তিনটি প্রধান সরকারি হাসপাতালের মধ্যে দু’টি সেবা প্রদানের বাইরে রয়েছে।

ইউনিসেফ উল্লেখ করেছে, প্রয়োজন যত তীব্র হচ্ছে তহবিলের ঘাটতির কারণে সেবা প্রদান ক্রমশ সীমিত হচ্ছে।