নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাউছিয়া পরিবহনের বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী ও স্ত্রী নিহত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় রূপগঞ্জ থানাধীন ওভারব্রিজের উপরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মো: আলমগীর খান (৪০) ও তার স্ত্রী সাবিহা চৌধুরী (৩২)। নিহত সাবিহা চৌধুরী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার কামাল নগরের শাজাহান চৌধুরীর মেয়ে। সাবিহা চৌধুরী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তাদের শিশু সন্তান মো: সিফাত (১১)। তাকে ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় সাবিহা চৌধুরী ও তার শিশুসন্তান সিফাতকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাবিহা চৌধুরীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শিশু সিফাতের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা চলছে।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী মিন্টু মিয়া বলেন, ‘সাদিয়া চৌধুরী তার স্বামীর সাথে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেল করে শনিবার বিকেলের দিকে বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। এ সময় তারাবো বিশ্বরোড ওভারব্রিজের উপর গাউছিয়া পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় রাস্তা ছিটকে পড়েন মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন। এতে ঘটনাস্থলেই সাবিহার স্বামী আলমগীর খান (মোটরসাইকেল চালক) নিহত হন। তার লাশ রূপগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পরে আমরা গুরুতর আহত অবস্থায় সাবিহা ও তার শিশুসন্তানকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলে চিকিৎসক জানান সাবিহা আর বেঁচে নেই। বর্তমানে জরুরি বিভাগে গুরুতর আহত শিশু সিফাতের চিকিৎসা চলছে।
তিনি আরো বলেন, গাউছিয়া পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে আসছিল। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটি বাসটি চাপা দিলে ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে। বাসটি বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে আছে। চালক ও হেলপারের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো: ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে সাবিয়া চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘ওই নারীর লাশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত শিশুটির জরুরি বিভাগের চিকিৎসা চলছে।’