বাংলাদেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের এক চতুর্থাংশ উচ্চ রক্তচাপে (হাইপারটেনশন) ভুগছে। নিয়মিত রক্তচাপ (ব্লাড প্রেশার) মেপে প্রয়োজনে ওষুধ সেবন করে সারাজীবন সুস্থ থাকা যায়। উচ্চ রক্তচাপ একটি ‘নিরব ঘাতক’। উচ্চ রক্তচাপে ভুগলেও এদের প্রায় ৫০ শতাংশই জানেন না যে তারা এই সমস্যায় আক্রান্ত। উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকলসহ বিভিন্ন জটিল ও প্রাণঘাতী অসুস্থতার অন্যতম প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ।

শনিবার (১৭ মে) বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস পালিত হয়েছে বাংলাদেশে। এ বছরে প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপুন, নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং দীর্ঘজীবী হোন’।

দিবসটি উপলক্ষে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফিসে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো: সাইদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল (রিজভী), স্বাগত বক্তব্য রাখেন হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফজিলা-তুন-নেসা মালিক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা: ইউনুছুর রহমান।

বক্তারা বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপ একটি ‘নিরব ঘাতক’। আমাদের দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। কিন্তু আশঙ্কাজনক বিষয় হলো-এদের প্রায় ৫০ শতাংশই জানেন না যে তারা এই সমস্যায় আক্রান্ত।’

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা উচিত। পাশাপাশি, এই রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এছাড়া রাজধানীর বিএমএ ভবনে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় বলা হয়, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, কিডনি রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ, যার অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ।