লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের নারী-পুরুষসহ সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বাকি তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বসুদুহিতা গ্রামের আন্ডার ঘর এলাকার কালির বাগো বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন দেলোয়ার হোসেন, আবুল হাসেম, আবু তাহের, আবুল কাশেম, মমতাজ বেগম, নিলুপা সুলতানা ও তাসমিনা জাহান কাছপিয়া।

হামলাকারীরা হলেন একই বাড়ির আবুল হোসেন, জাহিদ হোসেন, মো: ইব্রাহিম, মো: মাসুদ, আবদুর শহীদ, বকুলী বেগম, কহিনুর বেগম, সাইমুন, আফসার, সারমিন ও খাদিজা বেগম।

স্থানীয়রা জানায়, আবুল হাসেম ও আবুল হোসেন সম্পর্কে চাচাত-জেঠাত ভাই। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধে চলে আসছে। এর আগেও একাধিকবার তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ হয়। এনিয়ে আবুল হাসেমদের পক্ষে থানা সাধারণ ডাইরি করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে আবুল হাসেমরা তাদের দখলীয় জমিতে থাকা পুরাতন ঘর নতুন করে মেরামত করতে গেলে আবুল হোসেনরা বাঁধা দেয়। এনিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আবুল হোসেম ও তার দু’ছেলে জাহিদ হোসেন এবং ইব্রাহিমসহ ১২ থেকে ১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবুল হাসেমদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আবুল কাশেমদের পরিবারের নারী-পুরুষসহ সাতজন গুরুতর আহত হয়। এ সময় হামলাকারীরা তাদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে আহত আবুল কাশেম সাংবাদিকদের জানান, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে থাকা পুরাতন ঘর মেরামত করতে গেলে তাদেরকে বাঁধা প্রদান করে আবুল হোসেনসহ তার পরিবারের লোকজন। এনিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র হয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাদের পরিবারের নারী-পুরুষসহ সাতজন গুরুতর আহত হয়। হামলাকারীরা তাদের বসতবাড়ি ভাঙচুর করে আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণ অলংকার লুট করে নিয়ে যায়। তারা এই ঘটনায় প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার হামিদ বলেন, ঘটনাটি কেউ আমাদেরকে জানায়নি। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। তার পরও অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনিব্যবস্থা নেয়া হবে।