দারুল ইহসান ট্রাস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দ্রুত দখলমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিজেদের বৈধ দাবি করা ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা। সেই সাথে তারা এসব বুঝিয়ে দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের দাবি- আওয়ামীপন্থী ফ্যাসিস্ট চক্র ও জাহাঙ্গীর কবির নানকের অনুসারীরা অবৈধভাবে ট্রাস্ট ও ক্যাম্পাস দখল করে রেখেছে।

সোমবার (০৭ জুলাই) দুপুরে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার শ্রীপুরে অবস্থিত দারুল ইহসান ট্রাস্টের মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের বৈধ দাবি করা ট্রাস্টি বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক ও দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ওসমান গনি জানান, আদালতের রায়ে তারা বৈধ ট্রাস্টি কমিটি। এখন পর্যন্ত তাদের সদস্য ২১ জন। বিগত সরকারের আমলে তারা সুবিচার পাননি। বর্তমানে আদালতের রায়ে তারা বৈধ কমিটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। অবৈধ দখল থেকে এই ট্রাস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস দ্রুত দখল মুক্ত করে বৈধ কমিটির কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন উপস্থিত সদস্যরা।

ওসমান গনি আরো জানান, ২০১৬ সালে বন্ধ হওয়া দারুল ইহসান ট্রাস্টের সকল কার্যক্রম সচল রাখতে উচ্চ আদালতের রায়ও পেয়েছেন তারা।

জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে শিক্ষানুরাগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আশরাফ ৬ সদস্যের দারুল ইহসান ট্রাস্ট গঠন করেন। ট্রাস্ট গঠনের সময় তিনি ২১ বিঘা জমি দান করেন এবং পরবর্তীকালে আরো ক্রয় করেন। বর্তমানে মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩৫ বিঘা। যা গণকবাড়ী মৌজার শ্রীপুর বাসট্যান্ডের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। তিনি ১৯৯২ সালে তাহফিজুল কোরআনিল কারিম মাদরাসার কার্যক্রম শুরু করেন।

এর আগে ১৯৮৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং এ ট্রাস্টের অধীনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেন। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, মাদরাসা পরিচালনা এবং ট্রাস্টের আনুষাঙ্গিক কাজ চলতে থাকে গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের তত্বাবধানে। ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত হয় কনভোকেশন। এতে সভাপতিত্ব করেন তৎকালীন বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ।

১৯৯৮ সালে অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আশরাফের মৃত্যুর পর চেয়ারম্যান ও ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ পান অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান। তার মৃত্যুর পর আরো কয়েকজন দায়িত্ব পালনের পর সর্বশেষ ভাইস চ্যান্সেলর আনোয়ার হোসেন অবসর নিলে ২০০৫ সালে ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ করা হয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী নকীকে। এ সময় তার সাথে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের মতানৈক্য দেখা দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে বিভক্তির সূত্রপাত ঘটে। ২০০৬ সালে অধ্যাপক সৈয়দ আলী নকী জয়েনস্টক কোম্পানির নিবন্ধন করেন ১১ সদস্য নিয়ে। বিভক্ত হয়ে পড়ে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। আদালতে চলতে থাকে একের পর এক মামলা। ২০০৮ সালে সৈয়দ আলী নকীর মৃত্যুর পর বিভিন্ন সময় সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় তারা। এরপর সবগুলো মামলা একটি বেঞ্চে এনে শুনানির পর ২০১৬ সালে রায় হয় দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধের এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দারুল ইহসান ট্রাস্টের সেক্রেটারি মুহাম্মদ ওসমান গণী এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরাসহ আরো অনেকে।