ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ঐতিহ্যবাহী কান্দিপাড়া বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ছয়জন।

পাগলা থানা বিএনপি সাবেক সদস্য, উস্থি ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান কবির সরকার ও পাগলা থানা কৃষকদলের সাবেক আহ্বায়ক, কান্দিপাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, বাজারের ইজারাদার আসাদুজ্জামান সুজন গ্রুপের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কান্দিপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন উস্থি ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা কবির সরকার, তার ছেলে উস্থি ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি শাহরিয়ার শাওন, যুবদল নেতা কায়সার আহমেদ, কান্দিপাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, বাজারের ইজারাদার, কৃষকদল নেতা আসাদুজ্জামান সুজন, তার ছেলে উস্থি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এম রহমান সফল, ছাত্রদল নেতা জোবায়েত হোসেন স্বপ্নিল। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা কবির সরকার ও কৃষকদল নেতা আসাদুজ্জামান সুজনের লোকজন রাতে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে ছয়জন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের মধ্যে চারজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আহত কবীর সরকার বলেন, কান্দিপাড়া বাজারে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আসার পথে পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর নির্দেশে তার পক্ষের লোকজন আমাকে ও ছেলে শাওন উপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে।

বিএনপি নেতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে কবীর সরকার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত। সে কান্দিপাড়া আস্কর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্পদ দখল করতে চায়। বিদ্যালয়ে দখল করা মার্কেট উদ্ধার করতে গিয়ে এলাকার জনগণ তাকে গণপিটুনি দেয়। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, কবির সরকার ও আসাদুজ্জামান সুজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের চারজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে এ ঘটনায় আইনিব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।