পিরোজপুরের কাউখালীতে শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাউদার খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে বড় শাপলাজা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তার ওপরে অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করে যাতায়াত করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় রাস্তার অধিকাংশ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শাপলাজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়তুনিয়া দাখিল মাদরাসা, একটি এতিমখানা, একটি কওমি মাদরাসাসহ অন্তত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে।

এছাড়া এলাকার মানুষ এই সড়ক দিয়ে মোল্লারহাট, পাঙ্গাসিয়া বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ব্যাপক বেড়েছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থী তামান্না বলেন, ‘প্রতিদিন স্কুলে যেতে সাঁকো পার হতে হয়। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। দ্রুত রাস্তার সংস্কার প্রয়োজন।’

আরেক শিক্ষার্থী মুসা বলেন, ‘বর্ষার সময় রাস্তা পানির নিচে চলে যায়। তখন সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে খুব ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মীর মিরাজ বলেন, ‘বহু বছর আগে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য নূরে আলম মীর এই রাস্তার সংস্কার করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের।’

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য এনায়েত হোসেন বলেন, ‘বরাদ্দ পেলে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করব।’

শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তার সংস্কার কাজ করা হবে।’

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ‘রাস্তার বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমার নজরে আনা হলে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত কীভাবে ব্যবস্থা নেয়া যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। জনদুর্ভোগ নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সবসময় আন্তরিক।’