বিয়ের প্রলোভনে স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রেমিক মোরশেদ মিয়ার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন এক নারী। ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায়। এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লাপাত্তা ছেলে।
এ অবস্থায় গত চারদিন দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন অব্যাহত রেখেছেন মেয়েটি। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উভয়পক্ষের থেকে বাণিজ্য করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সরেজমিনে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবদাস গ্রামে দেখা গেছে- বিয়ের দাবিতে ওই নারীর অনশনের দৃশ্য। সেখানে ভিড় করছে উৎসুক জনতা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় পাঁচবছর আগে বৈষ্ণবদাস গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে মোরশেদ মিয়ার সাথে লেখাপড়ার সুবাদে একই গ্রামের ওই মেয়ের গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রায় চারবছর আগে মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে দেয় তার পরিবার। আর সেখানে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন মেয়েটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই মেয়ের অপেক্ষায় অবিবাহিত আছেন মোরশেদ মিয়া। কখনো থামেনি তাদের সেই প্রেমের সম্পর্ক।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় সাত মাস আগে মোরশেদের বিয়ের প্রলোভনে স্বামীকে তালাক দেয় মেয়েটি। এরপর বিয়ে করবে মর্মে গত ১৩ এপ্রিল সকালের দিকে মেয়েটিকে বাড়িতে ডেকে আনে মোরশেদ। এতে ঘটে নানা বিপত্তি। পরিবার আর কতিপয় স্বার্থন্বেষী মহলের সুযোগে লাপাত্তা মোরশেদ। তবে অনশন ছাড়েনি মেয়েটি। গত চারদিন ধরে বিয়ের দাবিতে মোরশেদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মেয়েটিকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করছেন শত শত উৎসুক নারী-পুরুষ। তবে রহস্যজনক কারণে এ ঘটনার কোনো সমাধান হচ্ছে না বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, মোরশেদের সাথে প্রেম আছে বলেই মেয়েটি বিয়ের দাবিতে অনশন করছে। আমরা চাই ওই মেয়ের সাথে মোরশেদের বিয়ে হোক। কিন্তু রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম উভয় পক্ষের কাছে টাকা নিয়ে বিয়ে পড়ানোয় টালবাহনা করছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের প্রতি ক্ষুব্দ হয়ে ওঠেছে এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী মেয়েটি বলেন, ‘মোরশেদের সাথে আমার দীর্ঘদিনের প্রেম। ওর কথামতো আমি স্বামীকে তালাক দিয়েছি। আর বিয়ের জন্য আমাকে ওর বাড়িতে ডেকে এনে পালিয়েছে সে। এখন আমি কই যাব। তবে বিয়ে না করা পর্যন্ত এই বাড়ি ছাড়ছি না। তা না হলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার কোনো উপায় নেই।’
এদিকে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মেয়েটির মা বলেছেন, ‘আমার মেয়ের বিয়ে পড়ানোর জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা দেয়া হলে সেই বিয়ে এখনো পড়ায়নি এই চেয়ারম্যান।
এ বিষয়ে প্রেমিক মোরশেদের মা বলেন, ‘আমার ছেলের সাথে ওই মেয়ের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। এ নিয়ে গ্রামবাসীর কাছে বিচার দাবি করছি।’
সাদুল্লাপুরের রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ছেলের প্রাপ্ত বয়স না হওয়ায় বিয়ে পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া আমি কারো কাছ থেকে কোনো প্রকার টাকা গ্রহণ করিনি।’