পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় সদস্য নবায়ন যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় মঠবাড়িয়া পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

দুই পক্ষের আহতরা হলেন- স্থানীয় ধানীসাফা ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মো: সজিব হাওলাদার, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী মো: ছগির হোসেন (৪৫), সাবেক পৌর ছাত্রদল নেতা ইসতিহাক আহম্মেদ মিশাত, গুলিসাখালী ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী নেতা মো: সোহাগ তালুকদার (৪০) ও টিকিকাটা ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী মো: ইউসুফ খান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় মঠবাড়িয়া পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সদস্য নবায়ন ও যাচাই-বাছাই চলছিল। এ সময় পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিগত দিনে যারা আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্তদের সদস্য ফরম পূরণ করানোর অভিযোগ ওঠে বহিস্কৃত রুহুল আমিন দুলাল-পৌর বিএনপি আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে। তালিকায় অনিয়মের বাধা দিলে বহিস্কৃত বিএনপি নেতা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রুহুল আমীন দুলালের ছোট ভাই মনিরুজ্জামান ছোট্টোর সাথে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শামীম মিয়া মৃধার ভাগ্নে মিশাত মিশুর সাথে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। ৫ আগষ্টের পর রুহুল আমিন দুলালকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের অভিযোগে দল থেকে বহিস্কার করে বিএনপি। বহিস্কার হলেও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির ও রুহুল আমিন দুলালের ছোট ভাই মনিরুল ইসলাম ছোট্ট পুরো উপজেলায় প্রভাব বিস্তার করে চলছেন।

উপজেলা বিএনপির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপুকে নিয়েও দলের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। মঠবাড়িয়া এলে তিনি হুমায়ুনের বাসায় ওঠেন। কাউন্সিল করতে এসে দুলাল-হুমায়ুনের পক্ষে কাজ করছেন। তার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এ বিষয়ে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো: হুমায়ূন কবীর বলেন, কিছু সদস্য ফরম নিয়ে মতবিরোধকে কেন্দ্র করে বিবাদ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। আমি দেখি উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শামীম মৃধার ভাগ্নে মিশাতকে উপস্থিত জনতা মারছেন। আমি গিয়ে ছাড়িয়ে দেই। আমি নিবৃত না করলে জনতার পায়ের নিচে পরে মারা যেতেন। বিষয়টি দলীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে কোনো পক্ষ অভিযোগ করেননি।