দিন দিন বেড়ে চলেছে ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা। টানা কয়েক দিন বাতাসের মান ‘মাঝারি’ পর্যায় থাকলেও সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য শহরটির বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থাতেই রয়েছে।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকার বাতাস সংবেদনশীলদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায় রয়েছে।
এই প্রতিবেদন লেখার সময় ১৩১ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী। এই মাত্রার বাতাসকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের লাহোর, ভারতের দিল্লি, ও সৌদি আরবের রিয়াদ যথাক্রমে ২৪২, ১৯৩ ও ১৭৩ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
যখন কণা দূষণের একিউআই মান ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকে, তখন বায়ুর গুণমানকে ‘মাঝারি’ বলে বিবেচনা করা হয়। সূচক ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় সাধারণত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে না থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেটা বেড়ে ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে চলে এলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। ৩০১ এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পৌঁছায়। এতে বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
জাতিসঙ্ঘের শিশুবিষয়ক সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে ৫০ কোটির বেশি শিশু অস্বাস্থ্যকর বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। প্রতিদিন পাঁচ বছরের কম বয়সী ১০০টি শিশুর মৃত্যুর সাথে বায়ুদূষণের সম্পর্ক রয়েছে।
একিউআই সূচক পাঁচটি দূষণের ওপর নির্ভরশীল। সেগুলো হলো- অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় জর্জরিত। এর বায়ুর গুণমান সাধারণত ‘শীতকালে’ অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে এবং ‘বর্ষাকালে’ উন্নত হয়। সূত্র : ইউএনবি