বাংলাদেশে এসে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের কোচ জেরার্ড জোন্স। নিজের স্ত্রী-সন্তানের খরচ চালানোর জন্য টাকা পাঠাতে পারছেন না তিনি।
সোমবার নিজেই এমন দাবি করেছেন ব্রিটিশ এই কোচ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
বেতন নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়ে জেরার্ড জোন্ড একটি পোস্ট করেছেন, যেখানে আর্থিক সঙ্কটের পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও জানিয়েছেন গভীর উদ্বেগ।
তিনি লেখেন, ‘খুব মন খারাপ লাগছে। বিষণ্ণ লাগছে। আমার পরিবার ও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আমি চিন্তিত।’ এরপরই নিজের আর্থিক দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন তিনি। ‘বেতনের অপেক্ষায় আছি। আমার কাছে কোনো টাকা নেই। আমার স্ত্রী ও সন্তানদের খাওয়ার জন্য টাকা পাঠাতে পারছি না।’
শুধু অর্থকষ্ট নয়, নিজের জীবন নিয়েও ভয় পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এই ব্রিটিশ কোচ। পোস্টের শেষ দিকে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আমার জীবনের জন্য শঙ্কিত ও খুব ভয়ে আছি।’
এমন অভিযোগের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে বাফুফের ব্যবস্থাপনা নিয়ে। তবে কোচের এই দাবির সাথে একমত নয় তারা। সূত্রের দাবি, জেরার্ডের বেতন ইতোমধ্যে ব্যাংকে জমা হয়েছে। তবে কর সংক্রান্ত কিছু প্রক্রিয়ার কারণে সেই অর্থ পাঠাতে কিছুটা সময় লাগছে।
বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী মাসের ১০ তারিখ তার বেতন দেয়ার কথা। আজ তার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়েছে। সেটা ইংল্যান্ডে পাঠাতে প্রক্রিয়া রয়েছে। সেটা আমরা করছি, বৃহস্পতিবারের মাঝে ইংল্যান্ডে সেই অর্থ যাবে।’
শুধু তাই নয়, জানা গেছে- বাফুফের অ্যাকাউন্ট থাকা ব্যাংকে গিয়েও কোচ বাজে আচরণ করেছেন। এমন কাণ্ডে খুবই বিব্রত ফেডারেশন, ‘কোচকে সামগ্রিক বিষয়ের জন্য সতর্ক করে চিঠি দেয়া হচ্ছে। এমন আচরণ মোটেও প্রত্যাশিত নয়’- বলেন সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে প্রথম বার্তাটি দ্রুতই চাউর হওয়ার পর দ্বিতীয় আরো একটি বার্তা দেন জেরার্ড। সেখানে তিনি তুলে ধরেন, ব্যাংক সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কথা। এ ছাড়া, পরিবার থেকে দূরে থাকার হতাশা, রাস্তায় বের হলে তাকে নিয়ে মানুষের কৌতুহল, এমনকি অর্থ চাওয়ার মতো বিব্রতকর পরিস্থিতি তিনি তুলে ধরেছেন।
বলেন, ‘আমার আজকের আগের পোস্টের ব্যাপারে কিছু আপডেট। এখন ব্যাংকিং সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি। আমি অর্থ পেয়েছি, কিন্তু আরো কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে আমাকে আগে জানানো হয়নি। আমার কিছু ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য যেভাবে জানানো ও শেয়ার করা হয়েছে, তা নিয়েও আমার গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।’
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘গতকাল ঢাকায় ও আজ আমি এমন কিছু পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি, যা আমাকে অত্যন্ত অস্বস্তিকর বোধ করিয়েছে। এর মাঝে গাড়ির কাছে এসে তাতে ধাক্কা দেয়া ও আমাকে ঘিরে ধরে অর্থ চাওয়া। এ ছাড়াও বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে আমার কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছেন।’
এই পরিস্থিতিতে অসহায় বোধ করার কথাও লিখেছেন জেরার্ড। স্ট্যাটাসের শেষে দুঃশ্চিন্তামুক্ত হয়ে কাজ করার আশাবাদও জানিয়েছেন তিনি- ‘এই চলমান অনিশ্চয়তা ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা, এখানকার জীবনযাত্রা- সবকিছু মিলে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। আমি এখানে কোনো সহানুভূতি ছাড়াই নিজেকে খুব একা অনুভব করছি। স্ত্রী ও তিন সন্তান থেকে দূরে থাকা এমনিতেই কঠিন। সব মিলিয়ে আমি ভীত ও শঙ্কিত, দিশেহারা, অসহায় এবং একা। আশা করছি, সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে, কারণ আমি কেবল কোনো দুঃশ্চিন্তা ছাড়াই আমার কাজটা করতে চাই।’
উল্লেখ্য, চলতি আগস্টের শেষ দিকে ২০২৭ অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে খেলবে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সাথে আছে উজবেকিস্তান, সিরিয়া ও ভারত। এই উপলক্ষে যশোরে জেরার্ডের কোচিংয়ে ক্যাম্প চলছে দলের। তবে ক্যাম্প ছেড়ে আজ ঢাকায় এসেছেন জেরার্ড।