অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বকে সামনে রেখে যশোরের শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে চলছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলের নিবিড় অনুশীলন। বিজয়ের মানসিকতা নিয়ে বহুদূর যেতে চায় বাংলাদেশের বয়সভিত্তি এই দলটি। আবাসিক ক্যাম্পে অনুশীলন শেষে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কোচ জেরার্ড এমলিন জোন্স ও দলের নতুন মুখ এ্যাডাম আব্বাস।
ইংল্যান্ড প্রবাসী এ্যাডাম গতকাল দলের সাথে যোগ দিয়েছেন।
আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব। বি-গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সিরিয়া, ভারত ও স্বাগতিক উজবেকিস্তান।
রোববার দুপুরে একাডেমি মাঠে এক ব্রিফিংয়ে দল নিয়ে নিজেদের এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
কোচ জানান, দলের দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে ফুটবলারদের মান ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়েছে। কেবল বর্তমান প্রতিযোগিতা নয়, বরং অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলের আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
জেরার্ড বলেন, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি অনুশীলন ম্যাচ খেলেছে দল। প্রতিটি ম্যাচ থেকে খেলোয়াড়রা শারীরিক শক্তি, কৌশলগত অবস্থান এবং চাপের মুখে খেলার ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি বা পিচ যা-ই হোক না কেন, সেটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে খেলোয়াড়দের স্ট্যামিনা ও ব্যালেন্স বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন কোচ। তিনি বলেন, লক্ষ্য একটাই, ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে দেশের জন্য সেরাটা দেয়া এবং জয় ছিনিয়ে আনা।
দলে নতুন যোগ দেয়া খেলোয়াড় এডাম আব্বাস প্রসঙ্গে কোচ বলেন, তিনি অত্যন্ত পেশাদার, নম্র এবং শেখার মানসিকতাসম্পন্ন একজন ফুটবলার। তাকে একজন দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে তৈরি করার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এ্যাডাম আব্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে ফুটবল মাঠে নামতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। জাতীয় দল, সহকারী কোচিং স্টাফ এবং টেকনিক্যাল টিম সবাই যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করছে, তা প্রশংসনীয়।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হামজা চৌধুরীর মতো তারকা ফুটবলারদের দেশের জার্সিতে খেলার ব্যাপারটাই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য।
আসন্ন এএফসি এশিয়ান কাপ টুর্নামেন্টসহ বড় মঞ্চে ভালো করাই দলের মূল লক্ষ্য। কোচ ও সকল খেলোয়াড়দের মধ্যে অসাধারণ সমঝোতা রয়েছে উল্লেখ করে এডাম আরো বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর পরিশ্রমের ধারা বজায় রাখলে জাতীয় ফুটবল দল দেশকে বড় সফলতা এনে দিতে পারবে।