চার শতাধিক রানের বিশাল লক্ষ্য। বিপরীতে মাত্র ৭০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় যায় দশা বাংলাদেশ দলের। কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। মাহিদুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে হার এড়ায় ইমার্জিং টাইগাররা।
পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিংয়ের বিপক্ষে ম্যাচের বুধবার (১৯ আগস্ট) শেষ দিনে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪১১ রান। তবে বিনা উইকেটে ১৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিনের শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। ৩৬ রানেই হারায় শাহাদাত হোসেন ও জাকির হাসানের উইকেট।
এরপর ইফতেখার হোসেন ইফতি ৪৫ ও মাহফিজুল ইসলাম রবিন ৬৯ রানে ফিরে গেলে মাত্র ৭০ রানেই ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মোহাম্মদ রিজওয়ানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় তখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল।
তবে সেখান থেকেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন মাহিদুল ও আমিনুক। দু’জন মিলে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের হতাশ করেন। দীর্ঘ প্রতিরোধের পর দলীয় ১৭৫ রানে ভাঙে তাদের জুটি। ১৪৭ বলে ১২টি চারে ৭৪ রান করে আউট হন বিপ্লব।
এরপরও হাল ছাড়েননি মাহিদুল। নাঈম হাসানকে সাথে নিয়ে দিনের বাকি সময়টা কাটিয়ে দেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা একের পর এক আক্রমণ করেও আর কোনো উইকেট নিতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত ৯৩ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৪ রান করে ম্যাচ শেষ করে বাংলাদেশ। মাহিদুল ২০৮ বলে ৪৮ ও নাঈম হাসান ৭৯ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
পুরো ম্যাচেই ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন অঙ্কন। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে ৯৭ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের চরম বিপদের সময় ৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচ বাঁচানোর নায়ক তিনি।
এর আগে, প্রথম ইনিংসে মিচেল ভ্যান বুরেনের ১৭১, অনকগোমোডিতসে সেলেটসওয়ানের অপরাজিত ১৫০ ও মদিরি লিথেকোর ১১৩ রানের সুবাদে ৫১৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং।
জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৩৯ রানে অলআউট হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় ৪১১ রানের বিশাল লক্ষ্য।
সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই আমিনুল-মাহিদুলের বীরত্বে হার এড়ালো বাংলাদেশ।