শিলাবৃষ্টি ঝড়ো হাওয়ায় কাটবে সামনের ১০ দিন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় সামনের দিনগুলো কেটে যেতে পারে। হঠাৎ করেই রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনটি মেঘে ঢেকে গিয়ে শুরু হয়ে যেতে পারে বৃষ্টি অথবা শিলাবৃষ্টি এবং একই সাথে শুরু হতে পারে কালবৈশাখী ঝড়। সাথে ঘাম ঝরানো সারাদিন। ধুলিঝড়ের সাথে গাছের শুকনো অথবা বড় ভারী ডাল ভেঙে পড়ে যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িক ব্যাহত করতে পারে। গাছের পাতা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়লে একসময় সেগুলো ড্রেনেজ সিস্টেমকে বন্ধ করে দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করতে পারে। ঈদের ছুটি এবং আগে-পরে এই হলো আবহাওয়ার সংক্ষিপ্ত পূর্বাভাস। ঈদের আগেই বন্ধ হয়ে যাওয়া ড্রেনগুলো পরিস্কার করতে না পারলে ঈদের পরে যানবাহন ও মানুষের যে ঢল নামবে ঢাকায় তখন হয়তো জলাবদ্ধতা আরো বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, চৈত্র মাসের বৈশিষ্ট্যটা এমনই যে, রোদ, বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবের মধ্য দিয়ে কেটে যায় দিনগুলো। ফলে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে অথবা পরে অথবা সেই দিনটিও কেটে যেতে পারে রোদ-বৃষ্টির মধ্য দিয়ে। কালবৈশাখীর মধ্যেই বজ্রপাত শুরু হয়ে যেতে পারে। ভয়ের ব্যাপার হবে বজ্রপাতের সময় খোলা আকাশের নিচে চলাফেরা করলে। বজ্রপাত হলে অবশ্যই ঘরের মধ্যে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। কোনো গাছের নিচে নয়, ক্ষেতে কাজ করা বন্ধ রেখে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে।

আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, প্রকৃতিতে এখনো আর্দ্রতা খুব বেশি যোগ হয়নি, ফলে শরীরে ঘামের পরিমাণও কম। কিন্তু বৃষ্টি বাড়তে থাকলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়বে, ঘামের পরিমাণও বাড়বে। ঘাম কমাতে অথবা ঘাম না হতে ফ্যান অথবা এসি ব্যবহারে বাড়বে বিদ্যুতের ব্যবহার। বৃষ্টির পর কয়েক দিন রোদ থাকলে মাটিতে থাকা পানি বাষ্পীভূত হয়ে গেলে তা বাতাসে জমা হয়ে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়াবে।

আগামী ১৮ মার্চে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সেদিন ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ১৭ মার্চ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ১৬ মার্চের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সামনের দিনগুলো দেশের আট বিভাগেই দমকা ও ঝড়োহাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কালবৈশাখীর এই দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজলী চমকাতে পারে। কখনো কখনো ঘন কালো মেঘ করে গুড়–ম গুড়–ম শব্দে ভয় ধরিয়ে দিতে পারে মানুষকে। বিজলী চমকানো অথবা বজ্রপাতের সময় সবাইকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, বিজলী অথবা বজ্র বৃষ্টির মধ্যে বাইরে চলাফেরা না করাই ভালো। এ সময় বাইরে চলাফেরা করলে বজ্রপাতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে গড়ে সাড়ে তিন শ’ মানুষের মৃত্যু হয়। ২০১০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ১০ বছরে তিন হাজার ২৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। এই হিসেবে প্রতি সপ্তাহে প্রায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে।