নিরাপত্তা ঝুঁকি,গানম্যান পেলেন ২০ জন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • তালিকায় জামায়াত আমির, এনসিপির ছয় নেতা ও শীর্ষ সম্পাদকরা
  • আবেদন করেছেন আরো অনেক রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তা

নিরাপত্তাগত ঝুঁকির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক নেতা, সংবাদপত্র সম্পাদকসহ মোট ২০ জনকে সরকারি নিরাপত্তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সরকারি নিরাপত্তা পাচ্ছেন- জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা। এ ছাড়া দেশের দু’টি শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার এর সম্পাদককেও নিরাপত্তার আওতায় আনা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কয়েক দিন আগে সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তা। কেউ চেয়েছেন পুলিশ, কেউ চেয়েছেন অস্ত্রধারী দেহরক্ষী বা গানম্যান। কেউ চেয়েছেন আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা, গানম্যান অথবা অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে এখন পর্যন্ত ২০ জন রাজনীতিবিদ আবেদন করেন। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি ২৫ জনের মতো সরকারি কর্মকর্তা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান ও বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশ সদস্য দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যাদের গানম্যান দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন- অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। এ ছাড়া গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক মো: রাশেদ খানও এই তালিকায় রয়েছেন।

একইভাবে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব:) অলি আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ সেখসহ আরো কয়েকজন নিরাপত্তা চেয়েছেন। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে নিহত জুলাইযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির পরিবারকেও বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার এক বোনকে অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান দেয়া হচ্ছে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া বিএনপি মনোনীত মেহেরপুর-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী মাসুদ অরুণ, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সেলিমুজ্জামান সেলিম ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এস এম জিলানী, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন (হিরু) প্রমুখ গানম্যান চেয়ে আবেদন করেছেন। ঢাকা-৪ আসনের (যাত্রাবাড়ী) বিএনপি মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থী তানভীর আহমেদ (রবিন) ও পাবনা-৩ আসনের হাসান জাফির তুহিন চেয়েছেন আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স। তাদের নিরাপত্তার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি ২৫ জনের মতো সরকারি কর্মকর্তা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন।

ভোটের আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ : আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আগে থেকেই ছিল। এর মধ্যে ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে গুলি করা হয় শরিফ ওসমান হাদিকে। তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মৃত্যুবরণ করেন। শহীদ হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। ফয়সালকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।

১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ভোট গ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ভোটের প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। রাজনৈতিক দলগুলো এখন প্রার্থী চূড়ান্ত করা, জোটের আলোচনাসহ নির্বাচন-সংক্রান্ত কাজ করছে। তবে নিরাপত্তার প্রশ্ন জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ১৪ ডিসেম্বর ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৫’ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও সশস্ত্র রক্ষী নিয়োগে এই নীতিমালা করা হয়।