প্রথম সপ্তাহ ফিটনেস ফিল্ডিং এরপর স্কিল : আশরাফুল

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঈদের ছুটি শেষ হতেই আবার মাঠে ফিরেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সাদা বলের সিরিজকে সামনে রেখে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প। গতকাল দ্বিতীয় দিনেও মাঠে নেমেছেন তাসকিন-সৌম্যরা। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটারদের নিয়ে এই ক্যাম্পে শুরু থেকেই জোর দেয়া হয়েছে ফিটনেস ও ফিল্ডিংয়ের ওপর।

ফিটনেস নিয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন আশরাফুল। তার কথায়, ‘দেখুন, টেস্টের খেলোয়াড়সহ তিন ফরম্যাটের খেলোয়াড়রাই এই ক্যাম্পের অংশ। বেশ কিছু দিন ধরে আমরা ফিটনেস নিয়ে কাজ করার মতো উপযুক্ত সময় পাইনি। টানা ক্রিকেটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ঠাসা সূচিতে বিপিএল ছিল, এরপর ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপ, তারপর বিসিএল এবং পাকিস্তান সিরিজ। এখন আমরা অবশেষে কিছুটা সময় পেয়েছি। প্রথম সপ্তাহটি ফিটনেস এবং ফিল্ডিংয়ের জন্য রাখা হয়েছে, এরপর আমরা স্কিল ট্রেনিংয়ে যাবো।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পর কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তবে সামনে ব্যস্ত সূচি থাকায় সেই বিরতি শেষে দ্রুতই অনুশীলনে ফিরতে হয়েছে সবাইকে। নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর আবার পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থাকায় সময়কে কাজে লাগাতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের অধীনেই শুরু থেকেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি।

ক্যাম্পের শুরুতে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ট্রেনিং দিয়েই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রথমে টি-২০ দলের ক্রিকেটাররা রানিং সেশনে অংশ নেন, পরে একে একে ওয়ানডে ও টেস্ট দলের সদস্যরাও যোগ দেন। দীর্ঘ সময় ধরে রানিংয়ের পাশাপাশি কন্ডিশনিং ও ফিটনেস উন্নয়নের বিভিন্ন অনুশীলন করানো হয়।

ফিটনেসের পর গুরুত্ব দেয়া হয় ফিল্ডিংয়ে। ফিল্ডিং কোচ জেমস প্যারামেন্ট ক্রিকেটারদের কয়েকটি দলে ভাগ করে আলাদা আলাদা অনুশীলন করান। বিশেষ করে গ্রাউন্ড ফিল্ডিং উন্নয়নে বাড়তি নজর ছিল, কারণ সাম্প্রতিক সিরিজে ফিল্ডিংয়ে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। টি-২০ ফরম্যাটে কিভাবে রান বাঁচানো যায় এবং দ্রুত রান আউটের সুযোগ তৈরি করা যায়, সে দিকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রথম দিন থেকেই প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে কোচিং স্টাফদের মাঝেও। সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল, ফিল্ডিং কোচ জেমস প্যামেন্ট ও কোচ সোহেল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন ক্রিকেটাররা।

জাতীয় দলের ক্যাম্পে ৩৭ জন খেলোয়াড় যোগ দেন। পাকিস্তানের সুপার লিগে খেলার কারণে ক্যাম্পে নেই মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন ইমন, রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা এবং তানজিদ হাসান তামিম। ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম শ্রেণীর প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) অংশ নেয়ার আগে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ক্যাম্পে থাকবেন টেস্ট খেলোয়াড়রা। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ক্যাম্পে থাকবেন ওয়ানডে ফরম্যাটের খেলোয়াড়রা। এরপর নিউজিল্যান্ডর সিরিজের জন্য জাতীয় দলের সাথে যুক্ত হবেন তারা। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের জন্য আলাদা দল নিয়েও ক্যাম্প হবে।

২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ড সবশেষ বাংলাদেশ সফর করেছিল। সেবার দুই টেস্টের সাথে তিনটি ওয়ানডে খেলেছিল। এর আগে ২০২১ সালে তারা এসেছিল পাঁচ টি-২০ খেলতে। সর্বপ্রথম তারা বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে এসেছিল ২০০৪ সালে। সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের এটি সপ্তম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফর হবে।