দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের স্থল অভিযান শুরু

Printed Edition

আলজাজিরা

কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ শহর খিয়ামের আশপাশে হিজবুল্লাহর সাথে লড়াইয়ের তীব্রতা বাড়ার পর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তাদের সেনারা দক্ষিণ লেবাননে সীমিত আকারে স্থল অভিযান শুরু করেছে। গতকাল সোমবার দক্ষিণের শহর খিয়ামে অন্তত তিনটি বিমান হামলারও খবর পাওয়া গেছে। হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খিয়ামকে দক্ষিণ লেবাননে ঢোকার পথ বিবেচনা করা হয়।

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করার পর তার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ রকেট ছুড়লে তেলআবিবের সাথে তাদের যুদ্ধ শুরু হয়। ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতির পর খামেনি হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত হিজবুল্লাহ ইসরাইলে কোনো আক্রমণ করেনি, উল্টো তেলআবিবই একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।

সোমবার সকাল ইয়াতের শহরে ইসরাইলি বাহিনী দু’টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। হামলাগুলোতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তাৎক্ষণিক কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ কালাউইয়া, সুলতানিয়া ও শাকরায়ও হামলা চালিয়েছে। কানতারা ও আস-সাওয়ানাতেও দু’টি হামলা হয়েছে।

সোমবার এক্সে দেয়া পোস্টে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাদের সেনারা ‘অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা অঞ্চল’ সম্প্রসারণে দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোতে স্থল অভিযানে মনোযোগ দিচ্ছে। ‘অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা অঞ্চল প্রতিষ্ঠার চেষ্টার অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, এর মধ্যে সন্ত্রাসী স্থাপনাগুলো ধ্বংস ও সন্ত্রাসীদের নির্মূলের কাজও রয়েছে,’ বলেছে তারা। ইসরাইল সীমান্ত ও লিতানি নদী থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে তুলনামূলক উঁচু এলাকা হওয়ায় খিয়াম থেকে উত্তর ইসরাইল ও কাছাকাছি লেবাননের সমতলভূমি সহজে চোখে পড়ে।

শহরটির আশপাশে ‘তুমুল লড়াই চলছে’ জানিয়ে আলজাজিরা এক প্রতিবেদক বলেন, ‘উচ্চতার কারণেই খিয়াম যার নিয়ন্ত্রণে যাবে, সে-ই কৌশলগত সুবিধা পাবে। তা ছাড়া এটি গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘ এক সংযোগস্থলে অবস্থিত, এই রাস্তা চলে গেছে দক্ষিণ লেবাননের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে। একটি রাস্তা ধরে চলে যাওয়া যাবে পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকায়, যেখানে হিজব্ল্লুাহর শক্ত প্রভাব রয়েছে। ‘ইসরাইল আসলে যা করার চেষ্টা করছে, তা হলো হিজবুল্লাহর সরবরাহ লাইন ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, যাতে করে তারা লিতানি নদীর দক্ষিণে আর কোনো অস্ত্র ও যোদ্ধা আনতে না পারে।’ রাজধানী বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননের অনেক এলাকার লোকজনকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়ায় এরই মধ্যে নারী-শিশুসহ আট লাখের বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। লেবানেন এ দফার ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৫০ জন নিহত হয়েছে, এদের মধ্যে শিশুই ১০৭টি, নারীর সংখ্যা ৬৬।