নাহিদ-তাসকিনের গতির ঝড়েই কুপোকাত

Printed Edition

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

বহু দিন ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে চলছে পেস বোলারদের লড়াই। একজন একটু খারাপ করলেই অপরজন সে স্থান পূরণ করে নিচ্ছেন। নিজ যোগ্যতায় স্থান পোক্ত করছেন। আবার ফর্ম থেকে একটু লাইনচ্যুত হলেই বাদ। ফের জায়গা পেতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে। এই লড়াইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলে জায়গা পোক্ত করেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা, অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ এবং কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। নাহিদ রানা এবং তাসকিনের তুলনায় বলে গতি কম মোস্তাফিজুর রহমানের। তবে কাজের কাজ ঠিকই করেন সেøায়ার ডেলিভারি এবং কাটার বল দিয়ে। এবারের পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের ২-১ এ জয়। পরশু ৫০তম ওভারের পঞ্চম বলে টাইগারদের জয় নিশ্চিত হয়। তখন বোলার ছিলেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তবে এর আগে দুই গতির রাজা নাহিদ রানা এবং তাসকিন আহমেদরা মিলে জয়ের যে ভিত্তি রচনা করেছিলেন সেটাই বাস্তবে রূপ দিতে ভূমিকা রাখেন মোস্তাফিজ এবং শেষটা রিশাদের স্পিন বোলিংয়ে।

মোট কথা এবারের সিরিজে বাংলাদেশের এই জয়ে প্রধান ভূমিকা রাখেন নাহিদ রানা এবং তাসকিন আহমেদ। ১১ মার্চ নাহিন রানার ফাইভারে (পাঁচ উইকেট) প্রথম ওয়ানডেতে ১১৪ রানে ইনিংস শেষ করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। সেই রান বাংলাদেশ দল অনায়াসেই টপকে যায় ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের ফিফটিতে। এরপর শেষ ম্যাচে ভয়ঙ্কর রূপে জ্বলে উঠলেন তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশের করা ২৯০ রানকে যখন টপকে যাওয়ার পথে তখনই গতির ঝড় তোলেন তাসকিন ও নাহিদ রানা। পরশু শেষ ওয়ানডে যা ছিল সিরিজ নির্ধারণী সেখানে তাসকিনই প্রথম আঘাত হেনে ব্যাকসিটে ঠেলে দেন পাকিস্তানকে। ৪৯ রানে চার উইকেট নেন তিনি। তাসকিন এবং নাহিদ রানা মিলেই গুঁড়িয়ে দেয় পাকিস্তানের টপঅর্ডার। ১৭ রানে নেই সফরকারীদের তিন উইকেট। এরপর চতুর্থ উইকেটের পতন হয় ৬৭ রানে। এই চার উইকেটই ভাগাভাগি করে নেন তাসকিন ও নাহিদ রানা। এরপর ছক্কার মেরে সেঞ্চুরি করা সালমান আগার সাথে জুটি গড়েছিলেন আবদুল সামাদ ও সাদ মাসুদ। বিপজ্জনক হয়ে উঠা এই দুইজনকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান মোস্তাফিজুর রহমান। ততক্ষণে ৩১.২ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ছয় উইকেটে ১৬১।

ক্রিজে তখন সালমান আগা ও ডেঞ্জারম্যান ফাহিম আশরাফ। তারা ম্যাচকে পাকিস্তানের দিকেই নিতে যাচ্ছিলেন। তখনই ফের তাসকিনের আঘাত। দু’জনই তার পেস বোলিংয়ে সাজঘরে ফেরেন। পুরো সিরিজে নাহিন রানার উইকেট সংখ্যা ৮টি। প্রথম ম্যাচে ২৪ রানে পাঁচ উইকেট। পরের খেলায় ৫৯ রানে এক শিকার। আর শেষ ম্যাচে তিনি দুই উইকেট পেতে ব্যয় করেছেন ৬২ রান। তার আট ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই সিরিজেই সবচেয়ে বেশি সংগ্রহ। যেখানে আগের পাঁচ ম্যাচে উইকেট ছিল পাঁচটি। নাহিদ রানা অবশ্য পাকিস্তানিদের জন্য পরাতন আতঙ্ক। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডির মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে চার উইকেট নেন তিনি। ওয়ানডেতে তিনি এবারই ম্যাচে পাঁচ উইকেটের সাক্ষাৎ পেলেও টেস্টে তার এই অর্জন ২০২৪ সালে। তা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংস্টনের মাঠে। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ৬১ রানে পাঁচ ব্যাটারকে আউট করেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই বোলার।

এই সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচে তেমন সুবিধা করতে পারেননি তাসকিন। প্রথম ওয়ানডতে তিনি সাত ওভারে ২৯ রানে একটি এবং পরের ম্যাচে ৫৯ রানে এক উইকেট পান। তবে পরশু দরকারের সময়ই নিজের য্যেগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। ১০ ওভারে ৪৯ রানে চার পাকিস্তানি ব্যাটারকে আউট করেছেন। তার ৮৬ ওয়ানডে ম্যাচে সপ্তম বারের মতো চার উইকেট নেয়া। দুইবার পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবং ২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে। পাকিস্তানী ব্যাটারদের ২০২৪ সালের রাওয়ালপিন্ডি টেস্টেও ভুগিয়েছিলেন। প্রথম টেস্টে তিন উইকেট এবং পরের টেস্টে পান এক উইকেট তাসকিন।

তাসকিনের মতো বাংলাদেশের তারকা বোলার মোস্তাফিজুর রহমানও প্রথম দুই ম্যাচে তেমন ভালো করতে পারেননি। দুই ম্যাচে শিকার একটি করে। প্রথম ম্যাচে ৪.৪ ওভারে ১৮ রানে এক উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তার একটি শিকার ৯ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে। পরশু শেষ ম্যাচেও ছিলেন বেশি রান দেয়া বোলার। তবে বিপরীতে ১০ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে দলকে জেতাতে বিশাল ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে শাহিন আফ্রিদির খেলা শটের বলটি যখন সরাসরি তার হাঁটুতে লাগে তখন মনে হচ্ছিল তিনি হয়তো মাঠেই আর থাকতে পারবেন না। স্ট্রেচারও ডাকা হলো। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠেই শুশ্রƒষা নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে শেষ বলে করে সেই বলেই আউট করেন হারিস রউফকে।

সিরিজে স্পিন বোলিংয়ে খারাপ করেননি অধিনায়ক মিরাজ হোসেন ও রিশাদ হোসেন। মিরাজ প্রথম ওয়ানডেতে ২৯ রানে তিন উইকেট নেন। আর দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৪ রানে দুই শিকার। রিশাদ দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৩ রানে তিন উইকেট নিয়েছিলেন। যদিও সেই ম্যাচে বৃষ্টির কারণে ডিএল মেথডে হেরে যায় বাংলাদেশ।

এই সিরিজে সবচেয়ে বেশি তারকা খ্যাতি ছিল পাকিস্তানের বাঁ হাতি বোলার শাহিন আফ্রিদির। তবে তিনি তিন ম্যাচে পেয়েছেন মাত্র চার উইকেট। সে হিসাবে সফল ছিলেন হারিস রউফ। প্রথম ম্যাচ মিস করা এই পেসার পরের দুই ম্যাচে নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট।