জ্বালানি ও বরফ সঙ্কটে ঘাটে আটকা শত শত ট্রলার
অসাধু ব্যবসায়ী সঙ্কট তৈরি করতে তেল মজুদ করে রেখেছেন
Printed Edition
গোলাম কিবরিয়া বরগুনা
‘ও আল্লাহ, তুমি মোগো দিকে একটু রহম করো। মোরা আর পারি না। ধারদেনা শোধ করমু কী দিয়ে? পোলাপানের লেখাপড়া আর ঈদের নতুন জামা দিমু কেমনে?’ এভাবেই বিলাপ করতে করতে ঘাটে মূর্ছা যাচ্ছিলেন বরগুনার পাথরঘাটার জেলে রিপন মালি। তার এই আহাজারি এখন উপকূলের শত শত জেলের।
ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এই সময়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরে বাড়তি আয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন উপকূলের জেলেরা। কিন্তু জ্বালানি তেল ও বরফ সঙ্কটে তাদের সেই স্বপ্নে এখন বিষাদের ছায়া। বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ (বিএফডিসি) বিভিন্ন ঘাটে জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গত তিন-চার দিন ধরে ডিজেল ও পেট্রল না পেয়ে শত শত ট্রলার ঘাটে নোঙর করে আছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে জ্বালানি তেল মজুদ করে রেখেছেন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতি লিটার পেট্রলে ১৫ টাকা এবং ডিজেলে ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়তি নেয়া হচ্ছে। পাথরঘাটার জেলে বাদশা রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিষ্ঠিত দোকানে তেল থাকলেও তারা আমাদের দিচ্ছে না। অথচ গোপনে বাড়তি টাকা দিলে ঠিকই তেল পাওয়া যাচ্ছে।
জ্বালানি সঙ্কটের সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে বরফ সঙ্কট। তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে স্থানীয় বরফ কলগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পর্যাপ্ত বরফ না পাওয়ায় যেসব ট্রলারের তেল আছে, তারাও সমুদ্রে যেতে পারছে না। ট্রলার মালিক বাবু মিয়া জানান, জেলেরা মাছ বিক্রি করে দ্রুত আবার সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও জ্বালানি ও বরফের অভাবে তারা এখন বন্দরে অলস সময় কাটাচ্ছেন।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ঈদের আগে মাছ ধরে জেলেরা কিছু লাভের আশা করেছিল। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট আর বিদ্যুৎ সঙ্কটে সেই আশা এখন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সঙ্কট কাটবে না। উপকূলের এই বিপন্ন মানুষগুলো এখন প্রশাসনের সুদৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন, যাতে ঈদের আগেই তারা সমুদ্রে ফিরে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারেন।