রোমান কংক্রিটের গোপন রহস্য উন্মোচন
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দুই হাজার বছরের বেশি সময় আগে তৈরি অনেক রোমান ভবন আজও দাঁড়িয়ে আছে। সময়, বৃষ্টি কিংবা ভূমিকম্প কিছুই তাদের সহজে ভাঙতে পারেনি। এতদিন প্রশ্ন ছিল, কিভাবে সম্ভব হলো এমন টেকসই নির্মাণ? ইতালির প্রাচীন নগর পম্পেইয়ের একটি নির্মাণস্থল সেই প্রশ্নের নতুন উত্তর দিলো।
খ্রিষ্টাব্দ ৭৯ সালে ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে পম্পেই শহর আগ্নেয় ছাইয়ে ঢেকে যায়। সেই সময় একটি বাড়ি মেরামতের কাজ চলছিল। ২০২৩ সালে গবেষকরা সেই স্থান খনন করে দেখতে পান আধা-তৈরি দেয়াল, নির্মাণসামগ্রী ও কাজের সরঞ্জাম। সবকিছু যেন সময়ের মধ্যে জমে থাকা একটি জীবন্ত ছবি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটির (ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) গবেষক অ্যাডমির মাসিক জানান, এই জায়গাটি রোমান কংক্রিট তৈরির পদ্ধতি বোঝার সবচেয়ে পরিষ্কার প্রমাণ দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, রোমানরা কংক্রিট বানাতে চুন, আগ্নেয় ছাই ও শুকনো উপাদান একসাথে মিশিয়ে তাতে পরে পানি দিত। একে বলা হয় ‘হট মিক্সিং’ পদ্ধতি (উচ্চ তাপে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় মেশানো)। এই পদ্ধতিতে তৈরি কংক্রিটের ভেতরে ছোট ছোট সাদা চুনের দানা থেকে যায়। দেয়ালে ফাটল ধরলে বৃষ্টির পানি ঢুকে এই চুন গলে যায় এবং আবার শক্ত হয়ে ফাটল ভরে দেয়। তাই একে বলা হয় ‘স্বয়ং-সারানো কংক্রিট’।
এই আবিষ্কার একটি পুরনো ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। প্রাচীন স্থপতি ভিত্রুভিয়াস তার লেখায় ভিন্ন এক পদ্ধতির কথা বলেছিলেন। তবে পম্পেইয়ের প্রমাণ দেখাচ্ছে, বাস্তবে রোমান নির্মাতারা আরো কার্যকর উপায় ব্যবহার করতেন।
গবেষকদের মতে, এই সাফল্যের পেছনে শুধু বিখ্যাত স্থপতিরা নন, সাধারণ শ্রমিক ও দাসদের দক্ষতাও বড় ভূমিকা রেখেছে। তাদের হাতে তৈরি প্যানথিয়ন বা কলোসিয়ামের মতো স্থাপনা আজও মানবসভ্যতার বিস্ময়। গবেষকরা আশা করছেন, এই প্রাচীন জ্ঞান আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তিতেও নতুন দিশা দেখাতে পারে। ইন্টারনেট।