লেবানন-সিরিয়া-গাজা-ইয়েমেনে হামলার হুমকি ইসরাইলের
Printed Edition
আনাদোলু এজেন্সি
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে যখন আন্তর্জাতিক মহলের নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা ও মধ্যস্থতা চলছে, তখন লেবানন, সিরিয়া, গাজা ও ইয়েমেনে সামরিক অভিযান বন্ধ না করার হুমকি দিয়েছে ইসরাইল।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এ চার অঞ্চলে তাদের সামরিক কার্যক্রম পূর্ণশক্তিতে চলবে। ইসরাইলি বিমানবাহিনীর পাইলটদের একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে কাটজ এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সেনাপ্রধান এয়াল জামিরও উপস্থিত ছিলেন। প্রতিরক্ষা দফতরের এ অবস্থান থেকে এটি স্পষ্ট যে, অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্ঘাত থামার কোনো সম্ভাবনা দেখছে না ইহুদিবাদী এ দেশটি।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘মারিভ’ জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ তার বক্তব্যে প্রতিটি ফ্রন্টের জন্য পৃথক কৌশলগত লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত রাখা হবে এবং সিরিয়ার জাবাল আল-শেইখ বা মাউন্ট হারমোন ও নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে ইসরাইলি বাহিনী কোনোভাবেই সরে আসবে না।
গাজা প্রসঙ্গে তিনি আবারো হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল করা এবং এলাকাটিকে নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এ ছাড়াও ইয়েমেনের হাউছিরা যাতে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে না পারে, সে জন্য সেখানেও ইসরাইলের অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
ইরান ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে ইসরাইল কাটজ এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে চালানো হামলায় ইরানের পারমাণবিক ও কৌশলগত সক্ষমতার অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইরানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৌশলগত কারণে হামলার বিস্তারিত তথ্য এ মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে ইরানের পারমাণবিক স্বপ্ন নস্যাৎ করতে ইসরাইল যে সফল হয়েছে, সে দাবিই তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। যদিও ইরান বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এখন পর্যন্ত এ বিশাল ক্ষয়ক্ষতির দাবি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনায় ইসরাইল লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হাউছিদের সাথে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের সাথেও ইসরাইলের সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলেও পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সিরিয়ার অভ্যন্তরেও গত এক বছরে শত শত বিমান হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি অসংখ্য বেসামরিক প্রাণহানি ঘটিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।