কেড়ে নেয়া হলো সেনেগালের শিরোপা

Printed Edition
khela-2
কেড়ে নেয়া হলো সেনেগালের শিরোপা

ক্রীড়া ডেস্ক

আফ্রিকান ফুটবলে বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হলো ২০২৫ সালের আফ্রিাকান নেশন কাপ। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের এক সিদ্ধান্তে মাঠে জিতে নেয়া শিরোপা দুই মাস পর কাগজে-কলমে হারাতে হয়েছে সেনেগালকে। আর নতুন করে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে মরক্কোকে। কনফেডারেশনের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক, সমালোচনা, আইনি লড়াই ও ক্রীড়া ন্যায়ের প্রশ্ন। শিরোপা কেড়ে নেয়ায় তীব্র বিরোধিতা করে সেনেগাল জানিয়েছে তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাবে। সেখানেই নির্ধারিত হবে এই নাটকীয় অধ্যায়ের চূড়ান্ত পরিণতি।

যেভাবে বিতর্কের শুরু

১৮ জানুয়ারি রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ঘটে নাটকীয় ঘটনা। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ দিকে কঙ্গোর রেফারি জেন জ্যাকুয়িস নদালা ভিডিও সহকারী প্রযুক্তির সহায়তায় মরক্কোর পক্ষে একটি পেনাল্টি দেন। অভিযোগ ছিল, সেনেগালের ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিয়ুফ মরক্কোর ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজকে ফাউল করেছেন। এর আগেই স্টপেজ টাইমে সেনেগালের একটি গোল বাতিল হওয়ায় খেলোয়াড়রা ক্ষুব্ধ ছিলেন। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সেনেগালের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। প্রায় ১৪ থেকে ১৭ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে, যা ম্যাচের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলে। পরে দলটি মাঠে ফিরে আসে। তবে পেনাল্টি নিতে গিয়ে ব্রাহাম দিয়াজ ব্যর্থ হন। এরপর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় এবং পেপ গুজের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় সেনেগাল।

ম্যাচ-পরবর্তী উত্তেজনা ও শাস্তি

মাঠ ছাড়ার ঘটনায় সমর্থকদের একাংশ মাঠে নেমে প্রতিবাদ জানায়। এ ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সেনেগাল ফুটবল সংস্থার ওপর বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করে কনফেডারেশন, পাশাপাশি কোচ পাপে থিয়াওসহ কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করা হয়। অন্য দিকে স্বাগতিক দলের বল বয়ের আচরণের জন্য মরক্কোর ফুটবল সংস্থাকেও জরিমানা করা হয়। ম্যাচ চলাকালে তারা সেনেগালের গোলরক্ষক অ্যাডওয়ার্ড মেন্ডির তোয়ালে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

কেন বদলে গেল ফলাফল

প্রথমে ম্যাচের ফল বহাল থাকলেও পরে আপিলের প্রেক্ষিতে অবস্থান বদলায় কনফেডারেশন। তাদের যুক্তি, অনুমতি ছাড়া মাঠ ত্যাগ করায় সেনেগাল টুর্নামেন্টের নিয়ম ভঙ্গ করেছে। সংস্থার ৮২ নম্বর ধারায় বলা আছে, কোনো দল রেফারির অনুমতি ছাড়া মাঠ ছেড়ে গেলে তাকে পরাজিত এবং প্রতিযোগিতা থেকে বাদ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ধারার ভিত্তিতে ফাইনাল ম্যাচের ১-০ গোলের ফলাফল বাতিল করে ৩-০ ব্যবধানে মরক্কোর জয় ঘোষণা করা হয়। ফলে শিরোপাও তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। তবে সমালোচকদের মতে, রেফারি ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় এই রায় মাঠের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করেছে।

আইনি লড়াইয়ে যাবে সেনেগাল

এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য, নজিরবিহীন ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সেনেগাল ফুটবল সংস্থা। তারা বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সাধারণত এই ধরনের মামলার রায় পেতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। ফলে বিশ্বকাপের সময়েও এই মামলা চলমান থাকতে পারে। সেনেগাল ফুটবল সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবদুলাই সেইদু সো বলেছেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব, আইন আমাদের পক্ষেই আছে।’