ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ঘাট স্বল্পতা ও ফেরি সঙ্কট

Printed Edition
bangla-1
দৌলতদিয়া ঘাটে আটকে পড়া ট্রাক সরিয়ে নেয়া হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

এম মনিরুজ্জামান রাজবাড়ী

আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত বাড়তে শুরু করেছে। তবে নাব্য সঙ্কট, সচল ঘাটের স্বল্পতা এবং ফেরি সঙ্কটের কারণে এবার ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা। বিশেষ করে ঘাটগুলোর সংযোগ সড়কের বেহাল দশা এবং পন্টুন খাড়া হয়ে যাওয়ায় যানবাহন পারাপারে দীর্ঘ সময় লাগছে।

ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই রুটে যানবাহনের চাপ কমলেও ঈদে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপে এই নৌরুটে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন ও যাত্রীর সমাগম ঘটে। তবে সেই বাড়তি চাপ সামলানোর মতো প্রস্তুতিতে ঘাট এলাকায় দেখা গেছে নানা সীমাবদ্ধতা।

সরেজমিন দৌলতদিয়া প্রান্ত ঘুরে দেখা যায়, এখানে মোট সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে বর্তমানে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট- এই তিনটি মাত্র সচল রয়েছে। বাকি চারটি ঘাট গত কয়েক বছর ধরে বন্ধ। সচল থাকা ঘাটগুলোর অবস্থাও খুব একটা সুবিধাজনক নয়। পদ্মায় পানি কমে যাওয়ায় পন্টুনগুলো নদীর অনেক নিচে নেমে গেছে, ফলে সংযোগ সড়কগুলো বেশ খাড়া হয়ে পড়েছে।

গতকাল সোমবার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পন্টুন খাড়া হওয়ায় দুটি তেলবাহী লরি উপরে উঠতে না পেরে আটকে আছে। এতে প্রায় ২ ঘণ্টা ঘাটটি অচল হয়ে থাকে। পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের অনেক ক্ষেত্রে রেকারের সাহায্য নিতে হচ্ছে, যার জন্য গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। কুষ্টিয়া-ঢাকা রুটের রোজিনা পরিবহনের চালক লাল চাঁদ ফকির বলেন, এমনিতেই ঘাটের সংখ্যা কম, তার ওপর পন্টুনগুলো খাড়া। ঈদের সময় একটা ঘাট নষ্ট হলে শত শত গাড়ি আটকে পড়বে।

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদে ১৬টি ফেরি চলাচলের কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১১টি ফেরি সচল রয়েছে। নাব্য সঙ্কটের কারণে বড় ‘রো রো’ ফেরিগুলো পূর্ণ গতিতে চলতে পারছে না। মাঝনদীতে জেগে ওঠা ডুবোচরের কারণে ফেরিগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে আসতে হচ্ছে। এতে সময় অপচয় হচ্ছে এবং ঘাটে যানবাহনের সারি দীর্ঘতর হচ্ছে।

ঈদযাত্রায় শুধু যানজট নয়, যাত্রীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে নিরাপত্তা ও অতিরিক্ত ভাড়ার নৈরাজ্যও। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘাট এলাকার সিসি ক্যামেরাগুলোর অধিকাংশই অকেজো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, ঘাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় রাতে ছিনতাইয়ের ভয় থাকে। এ ছাড়া লোকাল বাস ও মাহিন্দ্র চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, প্রশাসন এসব দেখেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো: সালাহউদ্দিন বলেন, ঈদে ১৬টি ফেরি চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে। সচল তিনটি ঘাট দিয়ে আমরা যানবাহন পারাপার নির্বিঘœ করার চেষ্টা করছি।

নিরাপত্তার বিষয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, ঈদে ঘরমুখো ও কর্মস্থলে ফেরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট, মোবাইল পেট্রল এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে। নৌ-পুলিশও সার্বক্ষণিক তদারকি করবে।

বর্তমানে যে অবস্থা, তাতে ঘাট সংস্কার এবং ফেরির সংখ্যা দ্রুত না বাড়ালে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঈদযাত্রা সাধারণ মানুষের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।