দৌলতদিয়ায় ৪০ যাত্রীসহ বাস নদীতে : ১৭ লাশ উদ্ধার
Printed Edition
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বাস পড়ে যাওয়ার ঘটনায় রাত ১২টা পর্যন্ত ১৭ নারী ও শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ১১ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে পেরেছে বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে বাসের ভেতর থেকে ১৫টি লাশ উদ্ধার করেছে। উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেয় সেনাবাহিনী ও নৌপুলিশ। বিইডব্লিউটিসির উদ্ধারকারী যান হামজার সহযোগিতায় বাসটি টেনে তোলা হয়। রাত ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাসটি তোলার কাজ চলছিল। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান উদ্ধার কাজ তদারক করেন। নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। বাসটি সম্পূর্ণ উদ্ধার করার পর আরো কিছু লাশ পাওয়া যেতে পারে বলে জানা গেছে। এ সময় নিখোঁজদের আত্মীয়স্বজনকে ঘাটে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
মারা যাওয়া দু’জনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেনÑ রেহেনা বেগম (৬০) ও মর্জিনা বেগম (৫৫)। রেহেনার বাড়ি রাজবাড়ীর ভবানীপুর এলাকায়। চিকিৎসাধীন আছেন নুসরাত (২৯) নামের এক নারী। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। অসুস্থ অবস্থায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন আরো একজন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সৌহার্দ্য পরিবহনের (রাজবাড়ী-ব-১১-০০-২৪) ওই বাসটি শিশু ও নারী-পুরুষসহ প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসার পর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা।
নিখোঁজদের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথি দাসসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা অবস্থান করছেন।
বাসটির যাত্রী আবদুল আজিজুল জানান, তিনি সাঁতরে প্রাণে বাঁচতে পারলেও তার স্ত্রী ও শিশুসন্তান এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা: এস এম মাসুদ জানান, দুই নারীর লাশ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: মারুফ হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে দু’জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো: মনির হোসেন বলেন, বিকেল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া ৫টার দিকে ওই ঘাটে ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
মনির হোসেন আরো জানান, ‘চোখের সামনে বাসটি পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেল, অথচ আমরা কিছুই করতে পারছিলাম না। এ সময় বাসে নারী-শিশুসহ অন্তত ৪০ জন যাত্রী ছিল। ইতোমধ্যে কয়েকজন যাত্রী উপরে উঠতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতর আটকা পড়ে।