রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ-ফাঁকা গুলি : পুরুষশূন্য এলাকা

Printed Edition

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বরুনা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনায় গতকাল মামলা করা হয়েছে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের চাচাতো ভাই মো: রিপন খান বাদি হয়ে ২২ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় এই মামলা করেন। তবে এ ঘটনায় গুলিবর্ষণকারীকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি, উদ্ধার হয়নি ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন শরিফ মিয়া (৩২), সজিব মিয়া (২৪), রিপন মিয়া (৪২), রাজিব মিয়া (২৮), শফিক (৪৫), আনুরুদ্দিন (৫৮), মো: ইসলাম (৪২), মাহাবুর রহমান (৪০), মো: রাজন (২৮), সবুজ মিয়া (৪২), মতিবুর (২৮), মহিবুর (২৫), রাকিব (২৮), শামীম (৩২), মো: মাহাবুর রহমান সুমন (৪০), ইমন মিয়া (২৪), নজরুল ইসলাম (৩৫), কবির হোসেন (৫০), মো: শাওন মিয়া (২২), রাকিব মিয়া (২৪), রানা (৪২) ও রনি মিয়া (৪০)।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরুষ শূন্য পুরো বরুনা এলাকা। বেশির ভাগ বাড়িতে নারী ও শিশুরাই শুধু অবস্থান করছেন। বাজারের বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ। গ্রেফতার আতঙ্কে পুরো বরুনা এলাকা পুরুষশূন্য। বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ। রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন। এ ঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি অন্যরাও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

দুর্বৃত্তরা বরুনা গ্রামের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন, নবী হোসেন ও গৃহবধূ টুকু বুড়ির বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে নগদ টাকা স্বর্ণালঙ্কারসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। তারা বরুনা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমানের ছবি, চেয়ার, টেবিলসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

বরুনা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করা হোক। নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত।

গৃহবধূ নূরুন নাহার বলেন, বরুনা এলাকায় সব সময় ভয়ে রয়েছি। এখনো আতঙ্ক কাটেনি। পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই।

রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।