চিতলমারীতে দুই বংশের সংঘর্র্ষ

হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহয়তা প্রদান

Printed Edition

চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে বিশ্বাস ও শেখ বংশের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল রোববার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাজ্জাদ হোসেন ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে এ সহায়তা তুলে দেন।

এদিকে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পৃথকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

জানা গেছে, মধুমতি নদীর চরের জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস ও শেখ বংশের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আরিফ শেখ নামে এক যুবককে আঘাত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিশ্বাস বংশের লোকজন শেখ পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এতে অন্তত ৪০টি বাড়িঘর পুড়ে যায় এবং রাজিব শেখ নামে শেখ বংশের এক সদস্য নিহত হন।

এ ঘটনায় শেখ বংশের মো: মিরন শেখ বাদি হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৪০-৫০ জনকে আসামি করে শনিবার রাতে চিতলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে পুলিশও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে পৃথক একটি মামলা করে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং রামদা, টেঁটা, কাস্তেসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার তিন দিন পরও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রেফতার এড়াতে দুই বংশের বেশিরভাগ পুরুষ সদস্য বাড়িছাড়া। নারী, শিশু ও বয়স্করা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ির মূল্যবান সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

ইউএনও মো: সাজ্জাদ হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে।