পবিপ্রবিতে রেজিস্ট্রারকে জিম্মি করে পদোন্নতির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি
Printed Edition
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
রেজিস্ট্রারকে তার দফতরে অবরুদ্ধ করে রেখে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছে ‘বিধিবহির্ভূতভাবে’ পদোন্নতি সংক্রান্ত চিঠি পাঠাতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো: হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেছেন, চাপ ও পেশিশক্তির হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে ওই চিঠিতে সই করতে বাধ্য করা হয়। তবে ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম এ অভিযোগকে ‘বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
গত ৯ মার্চ ভিসি পূর্বানুমোদন ছাড়াই রাষ্ট্রপতির কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এ বি এম সাইফুল ইসলামের পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ১০ মার্চ রেজিস্ট্রারের কাছে ব্যাখ্যা চান ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। একদিন পরে রেজিস্ট্রার লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেন। এতে তিনি জানান, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের অধ্যাপক পদে ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতির বিষয়ে বাছাই বোর্ডের সুপারিশ ছিল। তবে রিজেন্ট বোর্ডের সব সদস্য একমত না হওয়ায় বিষয়টি অনুমোদন পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এমন ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছে পাঠানোর বিধান রয়েছে।
রেজিস্ট্রার দাবি করেন, এ অবস্থায় ড. সাইফুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন পাঠানোর উদ্যোগ নেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে রেজিস্ট্রারের দফতরে এসে আবেদনপত্রে সই করতে বলেন। ভিসি অনুমোদন ছাড়া তা সম্ভব নয় জানালে তাকে অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ রেখে দরজায় তালাবদ্ধ করে রাখার হুমকি দেয়া হয়।
লিখিত ব্যাখ্যায় রেজিস্ট্রার আরো বলেন, সই না করলে তাকে পদত্যাগ করতে চাপ দেয়া হয় এবং একপর্যায়ে তার টেবিলে আঘাত করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। পরে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্মানহানির আশঙ্কায় তিনি ভীত হয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও আবেদনপত্রে সই করতে বাধ্য হন।
ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।