‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশে আর স্বৈরতন্ত্র ফিরবে না : ধর্ম উপদেষ্টা

Printed Edition
Back Photgo-2
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ঢাকায় ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় গুরু, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, এ দেশে একবার মতায় বসতে পারলে ছলে-বলে-কৌশলে চেয়ার ধরে রাখার একটি দুঃখজনক প্রবণতা রয়েছে; কিন্তু আমরা সেই পথে নেই। যে দিন দায়িত্ব নিয়েছি, সে দিন থেকেই আমরা বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। একটি অবাধ, নিরপে ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী সরকারের হাতে মতা হস্তান্তর করে আমরা ঘরে ফিরতে প্রস্তুত।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাসাবোতে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট যৌথভাবে ‘গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক মাইলফলক। ওই দিন একই সাথে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়, তবে এ দেশে আর কোনোদিন স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হবে না। রাষ্ট্রে মতার ভারসাম্য তৈরি হবে এবং দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। তিনি সবাইকে ‘হঁ্যাঁ’ ভোটের পে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ভোটারদের প্রক্রিয়া বুঝিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রে গেলে আপনাকে দু’টি ব্যালট দেয়া হবে একটি সাদা এবং অন্যটি গোলাপি। সাদা ব্যালটে আপনি আপনার পছন্দের যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর গোলাপি ব্যালটে ভোট দেয়ার মাধ্যমে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে কিভাবে দেশ পরিচালনা করবেন, সেই গাইডলাইন বা রূপরেখা আপনি ঠিক করে দেবেন। তিনি একটি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ বাক্সে ভোট দেয়ার অনুরোধ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, বিগত ৫৪ বছরে আমরা মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবের কাক্সিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। কখনো সংবিধানকে অবজ্ঞা করে আবার কখনো সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে গণভোটের গুরুত্ব অপরিসীম।

বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমার সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- ধর্ম সচিব মো: কামাল উদ্দিন, ফাদার আলবার্ট টমাস রোজারিও, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পিউস কস্তা। অনুষ্ঠানে বক্তারা একটি সুশৃঙ্খল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আসন্ন নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের শপথ নেন।