হিটস্ট্রোক বুঝবেন কিভাবে

Printed Edition

প্রচণ্ড গরম পড়তে শুরু করেছে। এই গরমে হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশন-দুই ধরনের সমস্যাই দেখা যায়। দুপুরের কাঠফাটা রোদে ঘুরলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। আবার অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর পানিশূন্য হয়ে যায়। এই দুই সমস্যা দেখা দিলে শরীরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়। ডিহাইড্রেশন নাকি হিটস্ট্রোকের কারণে এই সমস্যা হয় তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। এ কারণে হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের মধ্যে পার্থক্য কী, কোনো সমস্যায় কী ব্যবস্থা নেবেন, তা জেনে রাখা জরুরি।

প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোক খুবই সাধারণ সমস্যা। তখন হঠাৎ করেই শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। রক্তনালী প্রসারিত হয়ে যায়। অতিরিক্ত তাপমাত্রা শরীর থেকে বেরোতে পারে না। স্বাভাবিকভাবেই রোগীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। অনেক সময়ে রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। কখনো কখনো হিটস্ট্রোক এতটাই মারাত্মক হয় যে রোগীর প্রাণসংশয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়।

লক্ষণগুলো : হিটস্ট্রোক হলে হঠাৎ করে পেশিতে খিঁচুনি শুরু হয়। শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং শরীরজুড়ে অস্বস্তি কাজ করে। অনেক সময় রোগী চোখে অন্ধকার দেখে এবং অজ্ঞান হয়ে যায়। কারো কারো বমিও হয়।

ডিহাইড্রেশন কী : শরীরে পানি ঘাটতি হলেই ডিহাইড্রেশনে ভুগতে পারেন। অতিরিক্ত গরমে শরীরে প্রচণ্ড ঘাম হয়। সেই ঘামের সাথে শরীর থেকে জল ও খনিজ বেরিয়ে যায়। তখন শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। তখন এই সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, স্যালাইন কিংবা লেবুর শরবত খেলে শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

বুঝবেন কিভাবে : হিটস্ট্রোকের চেয়ে ডিহাইড্রেশনের লক্ষণগুলো খুব একটা আলাদা নয়। তবে ডিহাইড্রেশন হলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে না। বরং, ঠোঁট ও মুখের চারপাশ শুকিয়ে যায়। প্রবল ঘাম হয় এবং শরীরজুড়ে ক্লান্তি কাজ করে। পানির অভাবে কারো কারো তীব্র মাথাব্যথা হয়।

গরমকালে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খেলেই শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে পানি বা ওরস্যালাইন খেলে শরীর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যায়। গরমের এই সময়ে ঘন ঘন পানি এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় খেলে, ডিহাইড্রেশনের ঝুঁেিক এড়ানো যায়। কিন্তু হিটস্ট্রোক যখন তখন ঘটতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ রোদে ঘোরাঘুরি করলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রোদে বেরোলে ঢিলে পোশাক পরুন, সাথে ছাতা, সানগ্লাস, পানির বোতল রাখুন।

হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশন হলে কী করবেন : হিটস্ট্রোক হলে রোগীকে ঠাণ্ডা বা ছায়া রয়েছে এমন জায়গায় বসাতে হয়। মুখে-চোখে, ঘাড়ে দ্রুত ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ঝাপ্টা দিন। রোগীকে ঠাণ্ডা পানি বা ওরস্যালাইন খাওয়ান। গায়ের পোশাক আলগা করে দিন দিন। রোগীর সমস্যা না কমলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। ইন্টারনেট।