সাংবিধানিক স্বীকৃতি কি পাবে গাজীপুর-৬
ফুলবেঞ্চে আজ নতুন আসন নিয়ে শুনানি
Printed Edition
হাইকোর্ট চেম্বার কক্ষে স্থগিতাদেশের পর নতুন গঠিত গাজীপুর-৬ আসন বহাল থাকবে কী না, তা নির্ধারণ হবে আজ রোববার আপিল বিভাগের ফুলবেঞ্চে। শুনানির আগে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত গেজেটে থাকা জনসংখ্যা, ভূ-প্রশাসনিক কাঠামো ও ভোটারঘনত্ব বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, টঙ্গী, গাছা ও পূবাইলের নগর-বাস্তুতন্ত্র অনুযায়ী গঠিত নতুন আসনটি প্রশাসনিকভাবে যৌক্তিক এবং নির্বাচন ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গেজেট অনুযায়ী গাজীপুর-৬ আসন গঠিত হয়েছে টঙ্গী পূর্ব, টঙ্গী পশ্চিম, গাছা ও পূবাইল থানার আংশিক (৩৯ নং ওয়ার্ড) নিয়ে। চার থানা একই মহানগরভুক্ত শিল্পনগর ঘনত্ব, করিডোর-ভিত্তিক যোগাযোগ, মেট্রোপলিটন পুলিশ কাঠামো, সিটি করপোরেশনের সেবা ও সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে দীর্ঘ দিন ধরেই এখানে একীভূত প্রতিনিধিত্বের দাবি ছিল। নতুন আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৪০ হাজার ২৫৪ জন। এটি গাজীপুর-২ আসনের পাঁচ লাখ ৬১ হাজার ৬২৭ ভোটারের সাথে প্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ, ফলে নির্বাচনী ভারসাম্য রক্ষা পেয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক হিসেবেও নতুন আসনভুক্ত গাছা ও পূবাইলের আলোচিত ৮টি ওয়ার্ডে (৩২-৩৯) রয়েছে এক লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৫ ভোটার এবং টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার (৪৩-৫৭) ওয়ার্ডে তিন লাখ ৭৩ হাজার ৬৫৯ ভোটার। এই ঘনত্ব দেশের অন্যান্য মহানগরভিত্তিক আসনের সমতুল্য, এমনকি কোনোটির তুলনায় অনেক বেশি।
পূবাইলের ৩ ওয়ার্ডের (৪০-৪২) মোট ৬২ হাজার ৪৩ ভোটার কালীগঞ্জ (গাজীপুর-৫)-এ যুক্ত হওয়ায় সেখানে মোট ভোটার দাঁড়ায় তিন লাখ ১৮ হাজার ২৬৭ জন, যা আসনটিকে যুক্তিসঙ্গত আকার দিয়েছে। তবে মহানগরের অংশ হওয়া সত্ত্বেও পূবাইলের তিন ওয়ার্ডকে কালীগঞ্জে যুক্ত করায় স্থানীয়রা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, বাড়িয়া ইউনিয়নকে কালীগঞ্জের বদলে মহানগরভুক্ত গাজীপুর-২ এ যুক্ত করে প্রশাসনিক ভারসাম্যও ব্যাহত করা হয়েছে।
গাছার ৩২ ও ৩৩ নং ওয়ার্ড (৩০,০১৯ ভোটার) খসড়া গাজীপুর-২ থেকে সরিয়ে চূড়ান্ত গাজীপুর-৬ আসনে যুক্ত করায় দুই আসনের ঘনত্ব আরো পরিমিত হয়েছে। এদিকে কোনাবাড়ী থানার (৭-১২ নং ওয়ার্ড) এক লাখ চার হাজার ১১৫ ভোটার কালিয়াকৈর (গাজীপুর-১)-এ যুক্ত হওয়ায় সেই আসনের মোট ভোটার দাঁড়ায় চার লাখ ৭৫ হাজার ১১৫। গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর)-এ জয়দেবপুরের গ্রামীণ ইউনিয়ন যুক্ত হওয়াও ভারসাম্য এনেছে।
মহানগর হ বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন সরকার বলেন, একই নগরবাস্তবতার চার থানাকে একত্রিত করে গঠিত ‘গাজীপুর-৬’ সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও জনঘনত্বের বিচারে প্রয়োজনীয়। ফুলবেঞ্চে এ যুক্তিগুলোই প্রধান ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত হবে।
এদিকে চেম্বার কোর্টে স্থগিতাদেশের পর বৃহত্তর টঙ্গী অঞ্চলে ব্যাপক প্রত্যাশা দেখা গেছে।
যদি গাজীপুর-৬ বাতিল হয়ে পূর্বের গাজীপুর-২ এ ফিরে যায়, তবে ভোটারসংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় আট লাখ ৩০ হাজারে, যা দেশের যে কোনো একক আসনের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি এবং নির্বাচনীভাবে অত্যন্ত জটিল। নগরবাসীর দাবি, প্রায় সাড়ে ১১ লাখ ভোটারের গাজীপুর মহানগরকে জেলার পার্শ্ববর্তী প্রামীণ আসনের সাথে যুক্ত না করে মহানগরকেন্দ্রিক দু’টি পৃথক আসন (গাজীপুর-২ ও গাজীপুর-৬ আসন ) গঠন হবে অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।