অতিরিক্ত ভাড়া চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না

বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে মন্ত্রী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা যাতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন এবং সড়কে দীর্ঘ সময় আটকে না থাকেন, সে লক্ষ্যে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়া চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। এবার বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলিস্তান ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সড়কপথে আগামীকাল (আজ) থেকে ঈদযাত্রার চাপ বাড়বে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগেই গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আজ (গতকাল) রাত থেকেই দূরপাল্লার বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহনে তেল নেয়ার কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তারা জ্বালানি নিতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, জ্বালানি সঙ্কটের অজুহাতে কোথাও যাতে ভাড়া বাড়ানো না হয় বা অগ্রিম টিকিট ফেরত না দেয়া হয়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর আগে কিছু পরিবহন জ্বালানি সঙ্কটের কথা বলে অগ্রিম টিকিট ফেরত দেয়ার চেষ্টা করলেও সরকারের নির্দেশনার পর তা বন্ধ হয়েছে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে মহাসড়কের যেসব স্থানে নির্মাণকাজ চলছিল সেসব স্থান থেকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এতে অন্তত দুই থেকে তিনটি লেন যান চলাচলের জন্য সচল রাখা হয়েছে এবং যেখানে চারলেন রয়েছে সেখানে সব লেন চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মহাসড়কের জ্বালানি পাম্পগুলো ঈদের আগে সাত দিন এবং ঈদের পরে পাঁচ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য যানজটের ঝুঁঁকিপূর্ণ ২০৭টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, যাতে কোথাও যানজট সৃষ্টি না হয়।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সব প্রস্তুতি মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করছেন তিনি।

এ দিকে গতকাল বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রীর লোক দেখানো তৎপরতা নয়, প্রকৃত যাত্রী হয়রানি বন্ধের তৎপরতা চাই। বিজ্ঞপ্তিতে

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়।

সংগঠনের মহাসচিব মো: মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদযাত্রায় বিভিন্ন পথের গণপরিবহনে একদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে, অন্য দিকে নতুন সড়ক মন্ত্রী পুরনো সড়কমন্ত্রীর স্টাইলে মিডিয়া ও মালিক সমিতির লোকজন সাথে নিয়ে বাস র্টামিনাল পরিদর্শনের আইওয়াশ চালাচ্ছে।

অনতিবিলম্বে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।