এবার লোহিত সাগরে সতর্কতা জারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের

Printed Edition

আলজাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার সংঘাত দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করতেই সরাসরি যুদ্ধে যোগ দিল ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা। শনিবার ভোরে দক্ষিণ ইসরাইল লক্ষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘অ্যালার্ট’ জারি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নৌ মিশন।

লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের তৎপরতা এবং ইরানের প্রতি তাদের ক্রমবর্ধমান সমর্থনের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইউরোপীয় নৌ মিশন। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে মিশনটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য হালনাগাদ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে জাহাজগুলোকে নিবন্ধন করতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যানেলের মাধ্যমে সহায়তা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নৌ মিশনের সম্পদগুলো এখনো এলাকায় মোতায়েন রয়েছে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

দীর্ঘ জল্পনা ও হুমকির পর অবশেষে সরাসরি ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করল হাউছি বিদ্রোহীরা। ‘টাইমস অব ইসরাইল’-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে দক্ষিণ ইসরাইলকে লক্ষ করে একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে গোষ্ঠীটি। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর ইয়েমেন থেকে এটিই প্রথম সরাসরি আক্রমণ। শনিবার ভোরে এক বিবৃতিতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, ইয়েমেন থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি তারা শনাক্ত করতে পেরেছে। হুমকি মোকাবেলায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে হাউছি আন্দোলনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের ওপর হামলা বৃদ্ধি করে, তবে তারা সরাসরি ইরানের সমর্থনে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

লোহিত সাগর হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট। হুথিদের এই সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং ইইউর হাই-অ্যালার্ট জারির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।