ফরিদপুর-৪ এ লড়াই হবে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও ফুটবল
Printed Edition
আব্দুল্লা আল মামুন সদরপুর (ফরিদপুর)
ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনে লড়াইটা এখন আর কোনো এক পক্ষের নেই। ধানের শীষের সাংগঠনিক শক্তি, দাঁড়িপাল্লার সুশৃঙ্খল ভোট এবং ফুটবলের স্বতন্ত্র আবেদন সবমিলিয়ে ত্রিমুখী জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় এই সংসদীয় আসনটি। এখানে মোট আটজন প্রার্থী লড়াই করলেও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে শহীদুল ইসলাম বাবুল, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাওলানা সরোয়ার হোসেন, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে স্থপতি মুজাহিদ বেগ ছাড়া বাকি প্রার্থীরা ভোটারদের তেমন আলোচনায় নেই। তবে প্রার্থীরা যে যার মতো ভোটের মাঠে ভোটারদের মনোযোগ বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও। তারা সবাই এখন এই আসনের ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।
ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ গ্রামের দিনমজুর শেখ সেলিম এ প্রতিনিধিকে জানান, আওয়ামী ভোটব্যাংক তথা সাবেক সংসদ সদস্য নিক্সনের নিজস্ব বলয়ের ভোট ফলাফলের গতি পরিবর্তন করে দিতে পারে। সদরপুর উপজেলার মোবারক মোল্লার ডাঙ্গীর নাসির হাওলাদার জানান, নিরপেক্ষ ও নারী ভোটার জয়-পরাজয় নিশ্চিত করবে। চরভদ্রাসন উপজেলার সদর এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জানান, এ আসনে ফলাফল নির্ধারণে তরুণ ও নতুন ভোটাররা ভূমিকা রাখবে । তারা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেবেন।
দীর্ঘ দিনের রাজপথের লড়াকু সৈনিক রাজনীতিক, আত্মবিশ্বাসী বিএনপির শহীদুল ইসলাম বাবুল ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা তৃণমূল বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং মিটিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের ছায়াতলে একত্র করে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকায় এই নির্বাচন তার জন্য একধরনের ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’। বিশেষ করে বড় কোনো রাজনৈতিক মোড় না থাকলে দলীয় ভোটব্যাংক তার বড় শক্তি। তিনি তরুণ ও নতুন ভোটার এবং নারী ভোটারদের মনযোগ আকর্ষণ করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র স্থপতি মুজাহিদ বেগও ছেড়ে কথা বলছেন না। মুজাহিদ বেগ বর্তমানে এই আসনের সবচেয়ে বড় চমক। সদরপুর ও চরভদ্রাসনে তার ব্যক্তিগত একটা বড় ভোটব্যাংক আছে। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের ভোট তার বাক্সে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি বলে মনে করা হয়। সেই হিসাবে তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। বিশেষ করে যারা গতানুগতিক বড় দলগুলোর বাইরে বিকল্প খুঁজছেন, তারা ‘ফুটবল’ মার্কায় ঝুঁকতে পারেন।
ধীরস্থির, যুক্তি ও আদর্শের ওপর দাঁড়ানো মাওলানা সরোয়ার হোসেনের দাঁড়িপাল্লার ভোট এই নির্বাচনে এই আসনে ‘নির্ণায়ক’ হিসেবে কাজ করতে পারে। জামায়াতের ভোট খুবই সুশৃঙ্খল। যদি ত্রিমুখী লড়াই হয় এবং ভোট ভাগ হয়ে যায়, তবে জামায়াত প্রার্থী সরোয়ার হোসেনের নিজস্ব সাইলেন্ট ভোটগুলো তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। জামায়াতের সমর্থকরা মনে করেন নিজস্ব ভোটের পাশাপাশি চরাঞ্চল, আওয়ামী ভোট, নারী, তরুণ ও নতুন ভোট, হিন্দুদের কিছু ভোট মিলে তারা ভালো অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া রিকশা প্রতীক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি মিজানুর রহমান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে সমর্থন দিয়েছেন দাঁড়িপাল্লাকে।
তবে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জয় আসে, তা নির্ধারিত হবে ভোটের দিন ব্যালট বাক্সেই।