যুদ্ধে ইয়েমেন, দিশেহারা ট্রাম্প
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
- হাউছিদের হামলায় যুদ্ধের আরো বিস্তৃতি ঘটল
- সঙ্ঘাত বৃদ্ধি বা তা থেকে বেরিয়ে আসার বিকল্প নেই
- সৌদি ঘাঁটিতে হামলায় ১২ মার্কিন সেনা আহত
- বুশেহর পরমাণু স্থাপনা ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে শুরু হওয়া সর্বাত্মক যুদ্ধ এক মাস অতিক্রম করেছে। এই এক মাসে যুদ্ধের আগুনের লেলিহান শিখা কেবল দুই দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং তা পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের এই যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য নতুন এক অশনিসঙ্কেত নিয়ে এসেছে। ২০২৩ সাল থেকে বিচ্ছিন্ন হামলা চালিয়ে আসা হাউছিরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংজ্ঞায়িত এবং শক্তিশালী।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাব প্রণালীতে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করছে যে, ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের এই ত্রিমুখী লড়াই কেবল সামরিক সঙ্ঘাত নয় বরং এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথটি যদি হাউছিরা পুরোপুরি রুদ্ধ করে দেয়, তবে হরমুজ প্রণালী ও সুয়েজ খালের ওপর নির্ভরশীল বিশ্ব অর্থনীতিতে এমন এক ধস নামবে যা সামলানো বর্তমান বিশ্বের জন্য প্রায় অসম্ভব।
অন্য দিকে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, এই যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হতে না হতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চরম রাজনৈতিক ও কৌশলগত সঙ্কটের মুখে পড়েছেন। নিজের ঘোষিত এই যুদ্ধে ট্রাম্প এখন অনেকটা দিশেহারা। এক দিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে, অন্য দিকে তার জনসমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৩৬ শতাংশে।
ট্রাম্প এখন এক গোলকধাঁধায় আটকা পড়েছেন; হয় তাকে ইরানের সাথে একটি নমনীয় চুক্তিতে গিয়ে যুদ্ধ থেকে সম্মানজনক প্রস্থান নিশ্চিত করতে হবে, নয়তো মধ্যপ্রাচ্যের এই ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ আরো গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে নিজের প্রেসিডেন্সিকেই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে হবে। ট্রাম্পের পাঠানো ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব তেহরান ইতোমধ্যে ‘অবাস্তব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, যা হোয়াইট হাউজকে আরো অস্বস্তিতে ফেলেছে। যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ তো নেই-ই বরং ইরান ও তার মিত্রদের পাল্টা হামলা এবং ইসরাইলের অব্যাহত বিমান অভিযানে পুরো অঞ্চল এখন এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে।
হাউছিদের অংশগ্রহণ ও বিশ্ব বাণিজ্যের রুদ্ধ পথ
ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইরান-আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণ অংশে ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হাউছিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবানন, ইরান, ইরাক ও ফিলিস্তিনে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক হত্যার প্রতিবাদেই তাদের এই অভিযান। যদিও এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হাউছিদের হামলাগুলো ছিল মূলত বিক্ষিপ্ত, তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তেলাবিবে তাদের ড্রোনের সফল আঘাতের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হাউছিরা যদি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে নতুন করে বড় ধরনের হামলা শুরু করে, তবে তার প্রভাব হবে নাটকীয়। বর্তমানে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়াতে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠাচ্ছে। হাউছিরা এই পথটি বন্ধ করে দিলে এশিয়ার বাজারে তেল সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ইতঃপূর্বেই হাউছিদের হামলার কারণে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এখন ইরান যদি হরমুজ প্রণালি এবং হাউছিরা বাব আল-মানদাব প্রণালি যুগপৎ বন্ধ করে দেয়, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনবে।
এক মাস পেরোতেই দিশেহারা ট্রাম্প : ইরান যুদ্ধ শুরু করার চার সপ্তাহ পার হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের কোনো সুরাহা করতে পারেননি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, ট্রাম্প এখন নিজের তৈরি করা সঙ্কটে নিজেই আটকা পড়েছেন। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার ফলে মার্কিন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপ বলছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার বর্তমান মেয়াদের সর্বনিম্ন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ে এখন থেকেই তটস্থ।
ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ এড়াতে চাইছেন এবং চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের একটি পরিসমাপ্তি দেখতে চান। তিনি পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে ১৫ দফার একটি গোপন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংসের মতো কঠিন শর্ত রয়েছে। ইরান এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্য দিকে ট্রাম্পের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ বা চূড়ান্ত বিমান হামলার পরিকল্পনাও কার্যকর হচ্ছে না, কারণ যতক্ষণ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হচ্ছে না, ততক্ষণ কোনো বিজয়ই অর্থবহ হবে না। ইউরোপীয় মিত্ররা এই যুদ্ধে ট্রাম্পকে সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকার করায় তিনি জনসমক্ষে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সৌদি ঘাঁটিতে হামলায় ১২ মার্কিন সেনা আহত : সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ঘাঁটিতে থাকা অন্তত একটি সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত সেনাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা সঙ্কটপূর্ণ। এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩০৩ সেনা আহত হলেন।
আরব আমিরাতে ইরানের বড় আকারের হামলা : ইরানি বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতে (সংযুক্ত আরব আমিরাত) একযোগে ২০টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৭টি ড্রোন দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বেশির ভাগ হামলা রুখতে সক্ষম হলেও এ পর্যন্ত দেশটিতে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯৮টি। এই দীর্ঘ সঙ্ঘাতের ফলে আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও ভারতের নাগরিকসহ মোট ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরান দাবি করেছে, দুবাইয়ে মার্কিন সেনারা যেখানে অবস্থান করছে, সেখানে নিখুঁতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দুবাইয়ে অবস্থিত একটি ইউক্রেনীয় অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ডিপো ধ্বংস করার দাবিও করেছে তেহরান। ইরানের মতে, ওই সিস্টেমটি মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল। আইআরজিসি সতর্ক করে দিয়েছে যে, মার্কিন সেনারা যদি এই অঞ্চল থেকে পাততাড়ি না গুটিয়ে নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য হবে তাদের জন্য বিশাল এক সমাধিস্থল।
ওমান বন্দরে হামলা ও বৈশ্বিক শিপিং সঙ্কট : ওমানের সালালাহ বন্দরে ড্রোন হামলার পর ডেনমার্কের বিখ্যাত শিপিং কোম্পানি ‘মাস্ক’ তাদের কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে। হামলার পর দ্রুত বন্দর এলাকা থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেয়া হয়। ওমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় একজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং বন্দরের অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ইরান এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা মূলত ওমানের বন্দরে থাকা একটি মার্কিন সামরিক সহায়তা জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। যদিও ইরান ওমানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার দাবি করেছে, তবুও এই হামলা বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
লেবাননে সাংবাদিক ও প্যারামেডিক নিহত : দক্ষিণ লেবাননের জেজিন রোডে ইসরাইলি বিমান হামলায় আল-মানার টিভি ও আল মায়াদিন চ্যানেলের দুই সাংবাদিকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা লেবাননের গণমাধ্যম মহলে তীব্র শোকের ছায়া ফেলেছে। এ ছাড়া উদ্ধারকাজ চালানোর সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে পাঁচজন লেবানিজ প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা বৈরুতে হিজবুল্লাহর যোগাযোগ ইউনিটের দুই শীর্ষ নেতা আইয়ুব হোসেন ইয়াকুব এবং ইয়াসির মুহাম্মদ মোবারককে হত্যা করেছে। অন্য দিকে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় ৯ জন ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইসরাইলি বাহিনী বর্তমানে লেবানন সীমান্তের সাত কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছে।
ইরানের ওপর ইসরাইলের দফায় দফায় হামলা : শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ইসরাইলি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তেহরানে অন্তত ১০টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং শহরের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। ইসরাইল দাবি করেছে, তারা ইরানের ‘সন্ত্রাসী সরকারের’ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। এ ছাড়া তেহরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুদ্ধের গত পাঁচ সপ্তাহে ইসরাইল ও আমেরিকার হামলায় ইরানে ৯৩ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭১ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি এবং ২০ হাজার বাণিজ্যিককেন্দ্র রয়েছে। তেহরানেই ৩১ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আলজাজিরা জানিয়েছে, বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে- যা আঞ্চলিক পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাশিয়া-ইরান সামরিক সহযোগিতা : মার্কিন ও ইউরোপীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, রাশিয়া তাদের তৈরি উন্নত সংস্করণের শাহেদ ড্রোন ইরানে পাঠাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত এই ড্রোনগুলোতে এখন জেট ইঞ্জিন, এআই নেভিগেশন ও স্টারলিংক ইন্টারনেট ডিভাইস যুক্ত করা হয়েছে। আজারবাইজান হয়ে মানবিক সহায়তার ট্রাকে এই ড্রোনগুলো ইরানে পরিবহন করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্রেমলিন এই খবর অস্বীকার করলেও হোয়াইট হাউজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই উন্নত ড্রোন ইরানের হাতে পৌঁছলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
কুয়েত বিমানবন্দরে হামলা ও রাডার ব্যবস্থার বিপর্যয় : কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ড্রোন হামলায় এর প্রধান রাডারব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে বেশ কয়েক দফায় হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘœ ঘটেছে। এর আগে গত বুধবার কুয়েতের একটি জ্বালানি ডিপোতেও হামলা চালানো হয়েছিল। এসব হামলার জন্য কুয়েত সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে।
ইসলামাবাদে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার চেষ্টা : আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে আগামীকাল থেকে পাকিস্তানে এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের আমন্ত্রণে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। তাদের মূল লক্ষ্য হবে একটি সম্মিলিত আঞ্চলিক ঐক্য গড়ে তোলা এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা কমিয়ে আনার উপায় খুঁজে বের করা। এই প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে এই সম্মেলনের দিকে, যদি এখান থেকে শান্তির কোনো পথ বেরিয়ে আসে।