এক লাখ কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে রাশিয়ার সাথে আলোচনা চলছে -পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

আগামী এক বছরে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে রাশিয়ার সাথে আলোচনা চলছে। এ জন্য দেশটির সাথে মানবসম্পদ বিষয়ক একটি চুক্তি সই হবে। এ ছাড়া রাশিয়ায় কাজের খোঁজে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে ইউক্রেনের সাথে রাশিয়ার যুদ্ধে সৈন্য হিসাবে আটকা পড়া বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনতে মস্কোর সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। সরকার একই সাথে রাশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মস্কোতে গত সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গে লেভরভের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। রাশিয়াতে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছে।

বৈঠকে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে যে, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। খলিলুর রহমান রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের বিশেষ করে তৈরী পোশাক ও ওষুধ রফতানি দ্রুত বাড়ানোর সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়েছেন। এ লক্ষে আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশ থেকে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলকে আতিথেয়তা দেয়ার প্রস্তাবকে রাশিয়া স্বাগত জানিয়েছে।

বৈঠকে প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে এআইয়ের প্রয়োগ নিয়ে জ্ঞান বিনিময় করতে রাশিয়ার একটি প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন।

রুশ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে তার জাতীয় এআই নীতি প্রণয়নে এবং দেশে এআই উৎকর্ষ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সহায়তা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ব্রিকসের ১০ সদস্য রাষ্ট্র আপাতত নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ মাত্র দুই বছর আগে ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা পাঁচ থেকে বেড়ে ১০, অর্থাৎ দ্বিগুণ হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন এই বিন্যাসের সাথে মানিয়ে নিতে আমাদের কিছুটা সময় প্রয়োজন। তবে এই বিরতি শেষ হলে বাংলাদেশের সদস্যপদের বিষয়টি আমরা বিবেচনায় নেবো। আমরা এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ এশীয় দেশটির সদস্যপদকে স্বাগত জানাব।

লেভরভ বলেন, ব্রিকস সদস্যপদের সুবিধাগুলো সুস্পষ্ট। এ কারণেই ব্রিকসের বর্তমান সদস্য সংখ্যার চেয়েও বেশিসংখ্যক দেশ এই সুবিধাগুলোর অংশীদার হতে চায়। আমরা আবেদনকারীদের আকাক্সক্ষা বুঝতে পারি। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ব্রিকসের আওতাধীন নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদস্য ও শেয়ারহোল্ডার হয়েছে। আমরা তাদের এই অংশগ্রহণে অত্যন্ত আনন্দিত।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছি। রাশিয়ার সাথে আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কিছু ধারণা আলোচনার টেবিলে রয়েছে। যেমন, শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দেয়ার সম্ভাবনা এবং ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের সাথে একটি অগ্রাধিকারমূলক চুক্তি সম্পন্ন করতে আমাদের সহায়তা করা।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গে লেভরভকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তিন দিনের সফরে গত রোববার মস্কো গেছেন। জাতিসঙ্ঘ সাধারন পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটি প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তার সফরসঙ্গী ছিলেন।