পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক

Printed Edition
onno-2
চীনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট বুস্টার

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির উন্নয়নে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে চীন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটি প্রথমবারের মতো একটি রকেট নিয়ন্ত্রিতভাবে ফিরিয়ে আনার পরীক্ষা চালায়। ‘লং মার্চ ১০এ’ রকেটের মাধ্যমে চালানো এই পরীক্ষায় যানটিকে সফলভাবে নিচে নামিয়ে একটি বিশেষ উদ্ধার প্ল্যাটফর্মের নিকটবর্তী সমুদ্রে অবতরণ করানো হয়। এই সফলতার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিকে আরো উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বেইজিং।

চীনের ‘লং মার্চ ১০বি’ রকেটকে দেশটির নতুন প্রজন্মের অন্যতম শক্তিশালী উৎক্ষেপণযান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পৃথিবীর নিচু কক্ষপথে (লো আর্থ অরবিট) অন্তত ১৬ মেট্রিক টন ওজনের পেলোড বহনে সক্ষম এই রকেটকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্সের বহুল ব্যবহৃত ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের সমকক্ষ ভাবছেন। তবে রকেট পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে চীনের কৌশল স্পেসএক্সের চেয়ে ভিন্ন। স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন ৯’ রকেট নিজে থেকেই নির্দিষ্ট অবতরণস্থল বা সমুদ্রে অবস্থানরত ড্রোন জাহাজে সশরীরে নেমে আসে। অপরদিকে, চীনের ‘লং মার্চ ১০বি’ রকেট সরাসরি মাটি বা জাহাজে অবতরণ করবে না। এর পরিবর্তে রকেটে থাকা বিশেষ ‘অবতরণ হুক’ ভাসমান উদ্ধার প্ল্যাটফর্মে যুক্ত একটি জালকে আঁকড়ে ধরবে, যা রকেটটিকে নিরাপদে আটকে পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করবে।

নতুন এই প্রযুক্তির খবর প্রকাশের পর চীনের মহাকাশ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। দেশটির শেয়ারবাজারের নিয়ম অনুযায়ী এক দিনে সর্বোচ্চ অনুমোদিত মূল্যবৃদ্ধির সীমা স্পর্শ করে ‘চায়না স্পেসস্যাট’ এবং ‘চায়না স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন্স’- এই দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামই এক দিনে ১০ শতাংশ করে বৃদ্ধি পেয়েছে।