গণভোটের রায় অস্বীকার করা সরাসরি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান : গোলাম পরওয়ার
Printed Edition
খুলনা ব্যুরো
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, গণভোটে দেয়া জনগণের প্রত্যক্ষ রায়কে পাশ কাটিয়ে বিএনপি সরকার দেশকে এক গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলে গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে, যা মূলত জনগণের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া।’
শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সঙ্কটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী এই সেমিনারের আয়োজন করে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায়- এই দুই বিষয়কে আলাদা করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে মন্ত্রীরা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও গণভোটের রায় নিয়ে নীরব কেন? গণভোটের আগে দীর্ঘ চার মাস সময় থাকলেও তখন কেউ একে অসাংবিধানিক বলেননি। অথচ ক্ষমতায় বসেই সবকিছু অবৈধ বলা হচ্ছে- এটি সুস্পষ্ট দ্বিচারিতা।’
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সংবিধান সংস্কারের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়েছিল; কিন্তু গণভোটে পাঁচ কোটি মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বিএনপির সেই ভিন্নমতকে খারিজ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করলে বিএনপির অন্তত ১০টি জায়গায় সমস্যা হবে। এর মধ্যে রয়েছে- প্রধানমন্ত্রী একই সাথে দলীয় প্রধান থাকতে না পারা, উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি, নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি এবং বিচারক ও দুদক চেয়ারম্যান নিয়োগে স্বাধীন কমিশন গঠন। সরকার মূলত নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেই এই সংস্কারগুলো এড়িয়ে যেতে চায়।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদের সদস্যদের ক্ষমতা জনগণের দেয়া প্রতিনিধিসুলভ ক্ষমতা; কিন্তু গণভোটে জনগণ সরাসরি সিদ্ধান্ত দেয়। এই রায় অস্বীকার করা মানে জনগণের সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করা ফ্যাসিবাদের নামান্তর। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশে আবারো সঙ্ঘাত ও অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে সংসদে ফিরে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এখনো সময় আছে, সঙ্কট এড়াতে জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান করুন। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।’
খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, মাস্টার শফিকুল আলম ও মাওলানা এমরান হুসাইন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম এবং সঞ্চালনা করেন মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আলোচনায় অংশ নেন।