সবাইকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দূতাবাসের

লেবাননে ভয়াবহ বোমা হামলায় নারী রেমিট্যান্সযোদ্ধা নিহত

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসরাইলের ভয়াবহ বোমা হামলায় এবার প্রবাসী বাংলাদেশী রেমিট্যান্সযোদ্ধা এক নারী নিহত হয়েছেন। তার নাম মিজ দিপালী। তার বাবার নাম শেখ মোফাজ্জল। গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের চর সালেহপুর। নিহতের লাশ লেবাননের বৈরুতের হারিরি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে দূতাবাস নিশ্চিত হয়েছে।

লেবাননের বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, লেবাননে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশী সবাইকে এ মুহূর্তে নিরাপদে এবং সাবধানে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের সাথে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কাতার, দুবাই, বাহরাইন ও সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত মোট সাতজন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ হামলার শিকার হয়েছেন নারীশ্রমিক। নারীকর্মী নিহতের ঘটনা এই প্রথম। সবমিলিয়ে আট রেমিট্যান্সযোদ্ধা নিহত হয়েছেন। ইতোমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতায় তাদের মধ্য থেকে পাঁচজনের লাশ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের ইচ্ছায় অবশ্য একজনের লাশ বিদেশের মাটিতেই দাফন করা হয়েছে। বাকি একজনের লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বোমা হামলায় মিজ দিপালীর নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত ৮ এপ্রিল বুধবার বৈরুতের হামরা এলাকায় তার কফিলের পরিবারের সাথে অবস্থানকালে ইসরাইলের ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় দিপালী নিহত হন। প্রাথমিক তথ্যানুসারে একই আক্রমণে মরহুমা দিপালীর কফিল (নিয়োগকর্তা) ও তার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। কফিলের একজন পরিচিত প্রতিবেশীর বরাতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়। দিপালীর লাশের অবস্থা জানতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এদিকে হঠাৎ করে লেবাননের ওপর ইসরাইলের বর্বরোচিত বোমা হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে থাকা বাংলাদেশীদের দিন কাটছে চরম আতঙ্কের মধ্যে। বর্তমানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে দেশটিতে ৩০ হাজারের মতো বাংলাদেশী শ্রমিক গার্মেন্টস, পর্যটন শিল্পসহ বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছেন। তাদেরকে বিপজ্জনক এলাকা থেকে নিরাপদে সরিয়ে আনার কথা জানিয়ে সবাইকে দেশটির সরকারের দেয়া আইন কানুন মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।