এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি : বাংলা প্রথম পত্র
ভ্রমণকাহিনি : প্রবাস বন্ধু
Printed Edition
মো: জাকীর হোসেন
সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা বিভাগ), বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বনানী, ঢাকা
সুপ্রিয় এসএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ তোমাদের বাংলা প্রথম পত্রের ‘ভ্রমণকাহিনি : প্রবাস বন্ধু’ থেকে আরো ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
প্রশ্ন : আমার রান্না হুজুরের পছন্দ হয়নি। লেখকের প্রতি আগা আবদুর রহমানের এ অনুযোগের কারণ কী?
উত্তর : আবদুর রহমানের চোখে লেখক পর্যাপ্ত খাবার খাননি- এ কারণেই তার এই অনুযোগ।
আবদুর রহমানের রান্নার দক্ষতা ও রসনাবোধ অতিমাত্রায়প্রবল। সে বিচিত্র সব সুস্বাদু পদ পস্খচুর পরিমাণে রান্না করে লেখককে খেতে দেয়। ক্ষুধার্ত অবস্থায় লেখকও সেসব রান্না পেট পুরে, তৃপ্তি করে খান। কিন্তু আবদুর রহমানের মতন ভোজনরসিক ও বিশাল চেহারার মানুষ, পরিপূর্ণ ভোজন সত্ত্বেও লেখকের খাওয়াকে নিতান্ত সাধারণ ও কম ভেবে ‘আমার রান্না হুজুরের পছন্দ হয়নি’ বলে অনুযোগ করে।
প্রশ্ন : পানশির সম্পর্কে আবদুর রহমান লেখককে কী রকম বর্ণনা দিল? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : আবদুর রহমান লেখককে পানশিরের মানুষ ও পরিবেশের মনোজ্ঞ বর্ণনা দিল।
পানশির উত্তর আফগানিস্তানে অবস্থিত। আবদুর রহমানের নিজের জায়গা। আবদুর রহমানের ভাষায় সেখানে আস্ত একটা দুম্বা খেয়ে এক ঢোক পানি খেলেই আবার ক্ষিধে পায়। আকাশের দিকে তাকিয়ে লম্বা একটা দম নিলেই তাজি ঘোড়ার সাথে বাজি রেখে ছোটা যায়। পানশিরের মানুষ যেন পায়ে হাঁটে না, বাতাসে ভর করে উড়ে চলে। শীতকালে এত বরফ পড়ে যে পথঘাট, মাঠ, পাহাড়, নদী সব বরফে ঢাকা পড়ে যায়। সব কাজ বন্ধ থাকে।
প্রশ্ন : ‘পানশিরের মানুষ তো পায়ে হেঁটে চলে না, বাতাসের উপর ভর করে যেন উড়ে চলে যায়।’ উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : নিজ জন্মস্থান পানশিরের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে আবদুর রহমান আলোচ্য উক্তিটি করেছিলেন।
স্বদেশভূমি মানুষের পস্খাণের চেয়ে পিস্খয়। আবদুর রহমান স্বদেশভূমি পানশিরের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা পস্খসঙ্গে বলে, আমার দেশ- সে কী জায়গা! একটা আস্ত দুম্বা খেয়ে এক ঢোক পানি খান, আবার ক্ষিধে পাবে। আকাশের দিকে মুখ করে একটা লম্বা দম নিন, মনে হবে তেজি ঘোড়ার সঙ্গে বাজি রেখে ছুটতে পারি। পানশিরের মানুষ তো পায়ে হেঁটে চলে না, বাতাসের উপর ভর করে যেন উড়ে চলে যায়।.