চৌগাছায় পেঁয়াজচাষিদের মাথায় হাত

বিঘায় লোকসান ৫ হাজার টাকা

Printed Edition

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

যশোরের চৌগাছায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় চাষিদের মাথায় হাত। বিঘাপ্রতি লোকসান প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভালো ফলন হলেও দাম নিয়ে হতাশায় ভুগছেন পেঁয়াজ চাষিরা। এ বছর পেঁয়াজের দাম আশানুরূপ না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর চৌগাছা উপজেলায় মোট এক হাজার ৯৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫৩ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। উপজেলার মধ্যে ধুলিয়ানী, স্বরূপদাহ, পাতিবিলা, নারায়ণপুর ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।

গত শুক্রবার পেঁয়াজের বাজারে আকারভেদে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা জানান, উৎপাদন খরচ, শ্রমিক মজুরি, জমির লিজ, সার ও কীটনাশকের দাম বিবেচনায় এই মূল্য খুবই কম। নগদ অর্থের প্রয়োজনে কৃষক মাঠ থেকে সরাসরি বাজারে বিক্রি করছেন। ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কম দামে পেঁয়াজ কিনছেন। এ বছর উৎপাদন খরচও বেশি হয়েছে।

উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের পেঁয়াজচাষি তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, গত বছর তিন বিঘায় (মুড়িকাটা) পেঁয়াজের চাষ করেছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছিল এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় বেশ লাভ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এ বছর ঋণ নিয়ে ১০ বিঘায় পেঁয়াজ চাষ করেছি। কিন্তু এখন বাজারে যে দাম দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে ঋণের টাকা পরিশোধ করাই কঠিন হয়ে পড়বে। সরকার যদি অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ না করে, তাহলে চাষিদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। বর্তমান বাজারে পেঁয়াজের যে দাম তাতে আয়-ব্যয় মিলিয়ে বিঘাপ্রতি প্রায় পাঁচ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।

মান্দারতলা গ্রামের পেঁয়াজচাষি আবদুর রাজ্জাক বলেন, গত বছর পেঁয়াজ চাষ করে প্রায় দুই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এ বছরও আমাকে প্রায় দুই লাখ থেকে তিন লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে। এভাবে যদি বারবার লোকসান হতে থাকে, তাহলে কৃষকদের জন্য কৃষিকাজ কঠিন হয়ে পড়বে। তখন বাধ্য হয়ে হয়তো কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে হবে।

উপজেলার স্বরূপদাহ গ্রামের বাসিন্দা কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এক বিঘায় পেঁয়াজ চাষ করতে হলে বীজ কেনা থেকে বাজার পর্যন্ত পরিবহন বাবদ খরচ প্রায় ৬৪ হাজার টাকা। অনেক কৃষক বিভিন্ন এনজিও ও মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন, দাম কম হওয়ায় এখন তাদের মাথায় হাত। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন বলেন, এ বছর পেঁয়াজের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তবে কৃষকরা দাবি করছেন তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। ফলন ভালো হওয়ায় আমদানি বেশি তাই দাম একটু কম।