সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে জোর তৎপরতা

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জয়ী করে আনতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে ঢাকা। বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে প্রচারণা চালাতে বিদেশে অবস্থিত সব মিশনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই তৎপরতা চালাতে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতকে নিউ ইয়র্ক পাঠানো হয়েছে, যিনি ইতঃপূর্বে জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া খলিলুর রহমান জেদ্দায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নির্বাহী কমিটি, লন্ডনে কমনওয়েলথ মন্ত্রী পর্যায়ের সভার পর আগামী মাসে মরিশাসে ইন্ডিয়ান ওশেন কনফারেন্সে যোগ দিয়ে সাইডলাইনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করে তার প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন চাইবেন। তুরস্ক হয়ে এখন তিনি নিউ ইয়র্কে অবস্থান করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে সমর্থন আদায়ে তৎপর রয়েছেন। অর্থাৎ খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে জয়ী করে আনতে সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

আগামী ২ জুন সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপ থেকে ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য এ পদে বাংলাদেশের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সাইপ্রাস। সর্বশেষ ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে জাতিসঙ্ঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশ আবারো এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

এ ব্যাপারে সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে বলেছেন, সরকার যদি মনে করে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করতে পারলে দেশের ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল হবে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা রাখার সুযোগ বাড়বে, তবে তা সঠিক সিদ্ধান্ত। এখন পর্যন্ত যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেটা বিবেচনায় নিয়ে বলা যায় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের অবস্থান খারাপ না। তবে নির্বাচনে জয়ী হতে হলে বিভিন্ন জোটের সমর্থন পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশভুক্ত দেশগুলোর জোট কমনওয়েলথ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান প্রভৃতি রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো জোটের সমর্থন বাংলাদেশ পেয়েছে বলে জানা যায়নি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার ওপর সবার নজর কেন্দ্রীভূত। এ কারণে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় জোটগুলোর মেরুকরণ হতে পারে।

সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, খলিলুর রহমান প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি ও পরবর্তী সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো অগ্রগতি হয়নি। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে সাথে নিয়ে কক্সবাজার গিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, রোহিঙ্গারা পরবর্তী ঈদ মিয়ানমারের রাখাইনে করবে, যার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। এই ঘোষণা দেয়ার আগে নিশ্চয়ই তিনি খলিলুর রহমানের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বাস্তব কোনো নীতিপদ্ধতি নিয়ে খলিলুর রহমান অগ্রসর হতে পারেননি। তাই বলা যায়, প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গাবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে যেখানে যিনি দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেননি, জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে তিনি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, তাতে সংশয় থাকতে পারে।