শিক্ষায় বদলি ও পদায়নে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রশাসনে বিভিন্ন পদে বদলি কিংবা পদায়নের লোভ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। দীর্ঘদিন ধরেই এ অভিযোগ করে আসছেন ভুক্তভোগীরা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের পর এই অভিযোগ আরো জোরালোভাবে সামনে এসেছে। শিক্ষামন্ত্রণালয় কিংবা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) কিছু কর্মকর্তা সরাসরি এই কাজের সাথে জড়িত বলেও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এ দিকে মাউশি থেকে গত সোমবার সতর্কতা জারি করে জানানো হয়েছে যে, বিভিন্ন প্রতারক চক্র মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন বিভিন্ন দফতর, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে পদোন্নতি, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, বদলিসহ বিভিন্ন কাজ করিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ দাবি করছে। কোনো-কোনো ক্ষেত্রে একটি অসাধু চক্র কর্মকর্তাদের ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে কল, মেসেজের মাধ্যমে অর্থ দাবি করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। মাউশি বলছে কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে বদলি, পদোন্নতি করিয়ে দেয়ার নামে টাকা দাবি করছে একটি কুচক্রী মহল। এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমন ঘটনা ঘটলে এসব প্রতারকের ফোন নম্বর কাছের থানায় জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে মাউশি কর্মকর্তারা।
পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে কঠোর বার্তা
২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ের মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর বার্তা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, সে অনুযায়ী সময়মতো শিক্ষার্থীদের বই দেয়া হবে। এখানে যারা ত্রুটি করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকবে। সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে কাগজ মিল মালিকদের সাথে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বই ছাপাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের মিল মালিকরা বলেছেন, সারাদেশে যে বই ছাপা হয় সেই কাজে ওনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। ওনারা আমাদের জানিয়েছেন, ওনারা বাজারমূল্যেই দেবেন। কাগজের মান ওনারা ঠিক রাখবেন এবং সরকারকে সহযোগিতা করবেন। আমরা আশ্বস্ত হয়েছি যে, এবার বই সফলভাবে দেয়া হবে এবং আমরা সফলভাবে কাজ করতে পারব। ডিসেম্বরের মধ্যেই আমরা বই বিতরণ করতে পারব। সেই আলোকেই ওনারা সরকারের সাথে একটি এগ্রিমেন্টেও আসবেন, যাতে কোনো চুক্তির ব্যত্যয় না ঘটে।
তিনি বলেন, আমরা প্রেস মালিকদের সাথে আলাপ করব। কাগজ মিল মালিকরা যেন সঠিকভাবে কাগজ সাপ্লাই দেয় এবং প্রিন্টার্সরা যেন সঠিকভাবে প্রিন্ট করে। তাদের মধ্যে যে চুক্তি হবে সেটা আমাদের সাথেও হবে। কোন পেপার মিলসকে কত মেট্রিকটন কাগজ দিচ্ছে, কী দামে কাগজ দিচ্ছে- এটা আমরা আইডেন্টিফাই করব; কে এখানে দোষ করছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সে অনুযায়ী সময়মতো বই দেয়া হবে। এখানে যারা ত্রুটি করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকবে। বৈঠকে উপস্থিতি ছিলেন, বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো: মোস্তাফিজুর রহমান, মেঘনা পেপার মিলস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো: ইয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ, টি. কে. কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো: মোস্তফা কামাল, বেস পেপার্স লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো: জব্বার, সুইস কোয়ালিটি পেপারের (বিডি) মো: শাখাওয়াত হোসেন, ক্রিয়েটিভ পেপার মিলসের পরিচালক মো: ফিরোজ আহমেদ, এথিক্যাল পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলসের মাসুদ কামাল রানা, পারটেক্স পেপার মিলসের মো: লুৎফর রহমান, অ্যাম্বার সুপার পেপার লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক গোলাম জিলানী ভূঁইয়া, আলনুর পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সিকদার জাহাঙ্গীর, নিটল কার্টিস পেপার মিলস লিমিটেডের মো: তানবীর রহমান।