জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব জামায়াত আমিরের

Printed Edition
back-2
জাপানে ইসলামিক মিশনের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান জাপানে বসবাসরত প্রবাসী মুসলিমদের নৈতিক ও চারিত্রিক মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় জাপানি সমাজের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শ সঠিকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামিক মিশন জাপান আয়োজিত কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ও শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের দায়িত্ব ও সম্ভাবনার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরে বলেন, “জাপানের মতো উন্নত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাজে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো ব্যক্তিগত চরিত্র ও আচরণ। আমাদের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি ব্যবহার যেন ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে- এমন মানসিকতা ধারণ করতে হবে।গতকাল রোববার সাইতামা প্রিফেকচারের কশিগায়া শহরের গামো হলে আয়োজিত দিনব্যাপী সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই পরিবর্তনের ধারাকে টেকসই ও সফল করতে দেশের ভেতরের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রবাসে অর্জিত অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সম্পদ দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।

বিশেষ অতিথি সাইফুল আলম খান মিলন তার বক্তব্যে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও মুসলিম উম্মাহর বিভক্তির বাস্তবতা তুলে ধরে ঐক্যের অপরিহার্যতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিভাজন ও মতপার্থক্য ভুলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। “ইটের গাঁথুনির মতো দৃঢ় ঐক্যই আমাদের শক্তি”- এ কথা উল্লেখ করে তিনি জাপানে বসবাসরত বিভিন্ন পেশা ও স্তরের বাংলাদেশীদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ভাষাশিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।

প্রথম অধিবেশনে দারসুল কুরআন পেশ করেন ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি। তিনি সূরা মায়েদার ৫৪ থেকে ৫৬ নম্বর আয়াতের আলোকে বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অটল ভালোবাসা, মুমিনদের প্রতি গভীর ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সত্যের পথে অবিচল থাকা- এসব গুণই একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয় বহন করে। তিনি আরো বলেন, নিন্দা-সমালোচনাকে উপেক্ষা করে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় অটল থাকাই ঈমানদারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা অর্জনের মধ্য দিয়েই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও চূড়ান্ত সফলতা লাভ সম্ভব।

সম্মেলনের শেষপর্বে ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পরামর্শ সভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে আগামী দুই বছরের জন্য আবার কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন হাফেজ মাওলানা ছাবের আহমদ। পরামর্শ সভার নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

নির্বাচিত হওয়ার পর সভাপতির বক্তব্যে ছাবের আহমদ বলেন, “আমাদের দায়িত্ব শুধু সংগঠনের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাপানে বসবাসরত সমগ্র প্রবাসী বাংলাদেশী সমাজের কল্যাণে কাজ করা। ইসলামের সুমহান বার্তা সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় হতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সঙ্কটে এগিয়ে আসার মানসিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি আদর্শ কমিউনিটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে এক আবেগঘন পরিবেশে। দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

পরামর্শ সভার নির্বাচিত সদস্যরা হলেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মারুফ, মাজেদুল ইসলাম, নিয়ামত উল্লাহ, আবদুল মালেক, এটিএম মিছবাহুল কবির, মীর আলি আহকাম লিখন, সারোয়ার আলম সিদ্দিকী ও ড. শাহরিয়ার কামাল।